ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার অনেক বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লালপুরের কয়েকশ’ মানুষ। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা রাসায়নিকযুক্ত ও আবর্জনামিশ্রিত পানির দুর্গন্ধে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে দাবি পানিবন্দিদের।

জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফতুল্লায় তিন লক্ষাধিক মানুষের বাস। বৃষ্টিতে এ অঞ্চলে পানি জমলে তা ডিএনডি খালের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। তবে খালটি আবর্জনায় ভরাট এবং অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে। এ কারণে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, ফতুল্লার লালপুর, লালখাঁ, নন্দলালপুর, নয়ামাটি, শাহিমহল্লাহ, দৌলতপুর, মুন্সিবাগ, আদর্শনগর, পিলকুনি, ব্যাংক কলোনি, শিয়াচর, টাগারপারসহ আশপাশের মহল্লার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বাড়িঘরে পানি উঠেছে। কোথাও এক ফুট বা কোথাও দুই-আড়াই ফুট উচ্চতায় পানি জমে আছে। বিভিন্ন শিল্প-কারখানার রাসায়নিকযুক্ত পানির সঙ্গে ড্রেনের মিশে গেছে। পানি কালো বর্ণ ধারণ করেছে। ময়লাযুক্ত পানিপথেই চলাচল করতে হচ্ছে আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের।

লালপুরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও রোকেয়া বেগম জানান, লালপুর ডিএনডি প্রকল্পের মধ্যে না হলেও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এর মধ্যেই পড়েছে। লালপুর এলাকা নিচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হয় না। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতে এখানে দুই-তিন ফুট পানি জমে যায়। প্রতি বছরই লালপুরের মানুষকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হলেও প্রতিকার পাচ্ছেন তারা।

এদিকে জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। দ্রুত পানি নিষ্কাশনে বেশকিছু নির্দেশনাও দেন।