জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনে রাখার দাবিতে বৃহস্পতিবার ‘স্ট্যান্ড ফর এনআইডি’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন-ইসি কর্মীরা সারা দেশে নিজেদের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবেন।
আজ বুধবার (১২ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।
নির্বাচন কমিশন থেকে এ ঘোষণা আসার পর বুধবা আইসিটি ভবনে ‘এনআইডির ওনারশিপ’ শীর্ষক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের বিষয়টা সুস্পষ্টভাবে সামনে আনলাম। কারণ নির্বাচন কমিশন থেকে কয়েকটা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে এনআইডি সেবা যেন নির্বাচন কমিশনের কাছে থেকে নিয়ে নেয়া না হয়। আমরা বলতে চাচ্ছি যে এখন নির্বাচন কমিশন যে ডাটাবেইজ মেনটেইন করে তারা সেটাই মেইনটেইন করবে। কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদের একটি স্বাধীন ডেটা অথরিটির দিকে যেতে হবে, যেটা কিনা আমাদের লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক, অথেন্টিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক, ডেটা এক্সটেন্ট ফ্রেমওয়ার্কের জন্য জরুরি। যার ওপর ভিত্তি করে আমাদের ডিজিটাল অপারচুনিটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, আপাতত নির্বাচন কমিশনের অধীনেই এনআইডি সেবা থাকছে। এটা কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাবে না। এখনি যে সরিয়ে ফেলতে হবে সেটাও আমরা বলছি না, আমরা বলছি কার্যক্ষমতা আরো ভালো করতে চাচ্ছি। আমরা একটা প্রস্তাবনা তৈরির চেষ্টা করছি। আশা করছি ২ মাসের মধ্যে এটি হয়ে যাবে। এর মধ্যে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে একটি নীতিমালা করার জন্য ইউনেস্কোর সঙ্গে কাজ করছি। তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানোর কথা রয়েছে। সেটি পর্যালোচনা করে আমরা চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পেশ করব। এর মাধ্যমে ভূমি রেজিস্ট্রেশন, জন্ম-মৃত্যু সনদ, জাতীয় নাগরিক সনদ (এনআইডি), বিয়ে-তালাক রেজিস্ট্রেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সেবা, ভ্যাট-ট্যাক্স, ব্যাংকিংসহ যাবতীয় সেবা এক জায়গায় নিয়ে আসার মধ্যেমে সহজীকরণ করা হবে। এটি করা হলে নির্বাচন কমিশনও আরো সহজ ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে এনআইডি সরিয়ে নেয়া হলে বেশ কিছু জটিলতা তৈরির কথা বলছেন ইসির কর্মকর্তারা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, নাগরিকরা এনআইডি করার পর আলাদা করে ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে অনীহা দেখানোর ঝুঁকি এবং এনআইডি ইসির অধীনে না থাকলে রাজনৈতিকভাবে নাগরিকের তথ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এসব বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এমন কোনো ঝুঁকি তৈরির সম্ভাবনা নেই। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কোনোটিতেই নির্বাচন কমিশন এভাবে তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করে না। আফ্রিকার কয়েকটি দেশসহ হাতে গোনা ৪-৫টি দেশ বাংলাদেশের মতো করে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। এর কারণ হচ্ছে তারা উন্নত ডেটাবেজ তৈরির মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশেও একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে জরুরিভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি কার্যকরী সমাধান হিসেবে এনআইডি চালু করে। এবং সে সময়ের পরিস্থিতিতে এটি ইসির মাধ্যমে করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে আমাদের নাগরিকদের ডেটার সুরক্ষা এবং ডেটার সহজ ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সেন্টাল ডেটাবেজ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে নাগরিকের ৩৫টির মতো তথ্য সংরক্ষণ করে। কিন্তু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে তার এত তথ্যের প্রয়োজন আমার মনে হয় নেই। আমরা চাইছি কমিশনের যে যে তথ্য প্রয়োজন সেগুলো তারা যেকোনো সময় সহজে অ্যাকসেস পাবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যেসব কর্মকর্তা এনআইডি সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত আছেন, তাদের দক্ষতা ও সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন। ফলে কেউ চাকরি হারানোর ভয় বা অন্য কোনো কিছু ফেস করতে হবে, এমন কোনো কারণ নেই। আমি কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় যতটুকু দেখেছি সেখানে সেন্ট্রাল ডেটাবেজ তৈরি হলে সেখানে বর্তমান লোকবল বহাল রাখার পরও আরো বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। তাহলে নাগরিকের হয়রানি ও ভুলভ্রান্তি দূর করা সম্ভব। আর যেহেতু সেন্ট্রাল ডেটাবেজ কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে না, এটি একটি স্বাধীন কমিশন হবে, তাই কোনো তথ্য রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার বা এনআইডির সেবাগ্রহীতা কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা মিসইউজের ঝুঁকিও মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।










