উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ককটেল বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গতকাল সকালের দিকে রাজধানীসহ সারা দেশে ভোটের পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এদিন খুলনা, মুন্সিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, গাজীপুর, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও অনেক স্থানে ভোটার উপস্থিতিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।
নির্বাচনের দিন সকালে খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে প্রাণ হারান খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি (৫৫)। পরিবারের অভিযোগ, ধস্তাধস্তির সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে বিরোধী পক্ষের দাবি, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এছাড়া মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের মাকহাটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সকালে কয়েক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলে কেন্দ্রটিতে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়।
গোপালগঞ্জে রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ অন্তত সাতটি কেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই আনসার সদস্য ও এক শিশু আহত হয়। এসব ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতির হার কমে যায়।
এছাড়া ভোটের মাঠে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায়। সেখানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হান্নান মাসউদের অভিযোগ, ভোটের দিন তার সমর্থকদের ওপর হামলা করে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছেন বিএনপির সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত থেকেই সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া হাতিয়ায় রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ৩০-৪০ জন দুষ্কৃতকারী প্রবেশ করে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। পরে মোবাইল টিম উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় ভোটগ্রহণ ১০ মিনিট বন্ধ রাখা হয়।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভোট কেন্দ্রের ১০০ গজের মধ্যে হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাগেরহাটের শরণখোলায় ভোট প্রদানে বাধা দেয়ার ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর তিন কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাঁচদিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার দায়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের চার নেতাকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ফেনীতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, হামলার চেষ্টা হলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া রাজধানী ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী সাইফুল হক অভিযোগ করেছেন, তার নির্বাচনী এজেন্টদের অনেক কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি অপারেশনস রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সারা দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। যেসব কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যালট ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাও প্রতিহত করা হয়েছে।’









