খাল খনন কর্মসূচিতে দেশের প্রান্তিক মানুষ সুফল পাবে। কৃষি, মৎস্য, জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রাখবে।’

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বামনসুন্দর এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। এসব প্রকল্পে দুর্নীতির স্থান নেই। যতই শক্তিশালী হোক খাল দখলদারকে ছাড় দেয়া হবে না। দেশের প্রান্তিক মানুষকে সুফল দিতে খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও মৎস্যসহ নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।’

দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল জলাধরা খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের আলিরপোল এলাকা থেকে বানাতলী পর্যন্ত বামনসুন্দর খালের তিন কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হবে। এতে করে সরাসরি উপকারভোগী হবেন সাধারণ কৃষক। কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা যাবে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

উদ্বোধন শেষে মিরসরাই মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিন।

আমির খসরু বলেন, ‘‌আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিশাল কর্মসূচি একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। যদি আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের চিত্রই বদলে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘‌খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একটি খালের কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং এতে প্রায় পাঁচ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।’

খাল দখলমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‌দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক খাল দখল হয়ে গেছে। তবে এরই মধ্যে এসব খালের সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেখানে সরকারের খালের মালিকানা আছে, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে রাখার সুযোগ পাবে না। সীমানা নির্ধারণের পর সেই অনুযায়ী খাল খননের কাজ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেও সরকার সব কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এনার্জি ক্রাইসিসের মধ্যেও সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। অর্থের বিষয়টি হিসাবে রেখেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজির আহমেদ খান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক মো. নুরুল ইসলাম, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার প্রমুখ।