উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জেরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের পর গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। অন্যদিকে তার নিয়োগ ও ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিন সংগঠন। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য। পরে প্রশাসনিক ভবন-২-এ তার কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে কার্যালয় ছাড়ার সময় বেঁধে দিলেও সাড়া না পেয়ে ভবনের ফটকে আবার তালা দেন তারা। বিচ্ছিন্ন করা হয় কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ, তালা দেয়া হয় জেনারেটর কক্ষেও। রাত ৯টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যায় অবরুদ্ধ উপাচার্যের জন্য কলা, বিস্কুট ও পানি পাঠিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গতকাল শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভার পর বেলা সোয়া ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন উপাচার্যকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, ‘‌বহিরাগতদের সহায়তায় উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়টি তারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায় উপাচার্যকে বহন করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপও দাবি করেন তিনি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরদিন থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও যোগ দেন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে টানা বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা।

এদিকে গতকাল হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েটগামী বাস থামিয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপাচার্যের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের পর গতকাল সকালে উপাচার্য উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে ক্যাম্পাসে এসেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান বলেও জানান।