প্রযুক্তির নতুন সংস্করণ হিসেবে চালু করা জিপে (গ্রামীণপে) সামাজিক ব্যবসারই অংশ বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘একসময় ২০০-২৫০ টাকা নিয়ে বাসায় যেতে মানুষ ভয় পেত। কিন্তু জিপে অ্যাপে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কাউকে আর টাকা নিয়ে যাওয়ার ভয় পেতে হবে না। এখন আর টাকা বহন করতে হবে না। নোট নিয়ে, কাগজ নিয়ে আমাদের আর চিন্তা নেই। নির্ভয়ে লোকেরা চলাফেরা করবে। এটি মস্ত বড় এক পরিত্রাণ।’
আর্থিক লেনদেনকে আরো সহজ, নিরাপদ ও সবার জন্য সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করেছে ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্লাটফর্ম ‘জিপে’। ‘জিপেতেই সমাধান’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্লাটফর্মটির উদ্বোধন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা দলের উপস্থিতিতে জিপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘সামাজিক ব্যবসার লক্ষ্য হলো সমস্যার সমাধান করা। জিপে একটি সামাজিক ব্যবসা। এখানে মুনাফা কোনো ব্যক্তি নেবে না। কোম্পানি যা লাভ করবে তা দিয়ে সম্প্রসারণ করবে। সামাজিক ব্যবসার মধ্যেই তা সম্প্রসারিত হবে। সাধারণ মানুষের কাছে যে সার্ভিস নিয়ে যেতে পারব সেখানেই সাফল্য। এটাই আমাদের প্রচেষ্টা। বড়লোকের বহু আয়োজন থাকে, কিন্তু গরিবের নেই। গরিবের জন্য যেন প্রযুক্তির সার্ভিস থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই উদ্বোধন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য এই কারণে যে এটার একটা ট্যাগলাইন আছে। সুস্পষ্ট লক্ষ্য আছে। আর তা হলো তিনশূন্য কীভাবে দ্রুত অর্জন করা যাবে সে বিষয়ে শেখানো হবে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরি খোঁজা শিক্ষার্থীর কাজ হবে না, বরং এখানে থাকাকালীন ব্যবসার সৃষ্টি করাই হবে শিক্ষার্থীর কাজ।’
অনুষ্ঠানে জিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আহমদ আরমান সিদ্দিকী প্লাটফর্মটির বিভিন্ন সুবিধা ও ফিচার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো সবার জন্য লেনদেনের জটিলতা কমিয়ে লেনদেনকে সহজবোধ্য করে তোলা। আর্থিক যেকোনো জটিলতায় ‘‘জিপেতেই সমাধান’’ এনে দেয়াই আমাদের মূল প্রতিশ্রুতি।’
অনুষ্ঠানের শেষে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘টাকা পে’ কার্ড তুলে দেন।









