দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনসহ ১১টি মুসলিম দেশে গতকাল উদযাপন হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এসব দেশের মুসল্লিরা গতকাল সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে তারা একে অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নামাজ আদায়ের মতো অভিন্ন সংস্কৃতি ছাড়াও প্রতিটি দেশের মানুষ নিজস্ব সংস্কৃতি মেনে ঈদ উদযাপন করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স ও বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রমজান মাসের সমাপ্তির পর গতকাল সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোয় উদযাপন হয় ঈদুল ফিতর। মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদুল নববিতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ২০ লাখেরও বেশি মুসল্লি এ দুই মসজিদে ঈদের নামাজে উপস্থিত ছিলেন।
ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা ও হামলার আশঙ্কা উপেক্ষা করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি গতকাল ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই এত বিপুলসংখ্যক মুসল্লির জায়গা হয়নি মসজিদে, তাই মসজিদ প্রাঙ্গণের বাইরেও অসংখ্য মুসল্লি নামাজ পড়তে বাধ্য হন। গত বছর আল-আকসায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। আল-আকসা ছাড়াও গাজায় বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বা খোলা স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
কুয়েত ও বাহরাইনও ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। তবে প্রতিবেশী ওমান, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাই আজ ঈদ উদযাপন করবে। যুক্তরাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায় বিভক্ত, কেউ কেউ গতকাল ঈদ উদযাপন করেছেন, আবার কেউ কেউ আজ উদযাপন করবেন।
মধ্যপাচ্য ছাড়াও ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতো জার্মানিতে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। আবহাওয়া ততটা ভালো না থাকলেও কোথাও কোথাও উন্মুক্ত মাঠে বা পার্কে ঈদের জামাত হয়েছে। জার্মানপ্রবাসী বাংলাদেশীরা বিভিন্ন শহরে ঈদ উৎসবের আয়োজন করেছেন। দেশটিতে বাংলাদেশী অধ্যুষিত শহর হিসেবে পরিচিত ফ্রাংকফুর্ট ও অফেনবার্গ। সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে সব থেকে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রাংকফুর্ট রেলস্টেশনের কাছে মোসেল সড়কের একটি মিলনায়তনে। সেখানে তিন শতাধিক মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেন।










