বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বাঙ্গালী নদীতে হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি কমার পর গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। নদীপারের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনে কমপক্ষে ২০টি বসতবাড়ি, পাঁচ শতাধিক বিঘা আবাদি জমি ভেঙে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলাটি নদী দিয়ে ঘেরা। একদিকে যমুনা ও অন্যদিকে বাঙ্গালী নদী। এর মধ্যে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হঠাৎ করে বাঙ্গালী নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীপারের মানুষ উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে। সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের চান্দিনা নোয়ারপাড়া গ্রামে বাঙ্গালী নদীর ভাঙন বাড়তে শুরু করেছে। গ্রামের ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ ভাঙন দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনের এই গ্রামের ৫০০ বিঘার বেশি ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। গ্রামে বসবাসরত ইন্দ্র, সূর্য, প্রাত, চন্দ্র, গৌর, দিনেশ, সুবল, সন্তেশ, অনন্ত, গেনা, খট্টু, মনু, কালে, নিমাইসহ ২০টি পরিবারের লোকজনের বসতবাড়ি ভাঙনের শিকার হয়েছে। তারা এখন অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বসতভিটার সবকিছু নদীতে বিলীন হয়েছে। বাঙ্গালী নদী এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল এখন হুমকিতে রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চান্দিনা নোয়ারপাড়া গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নদীভাঙনের শিকার। এর আগে গত জুলাইয়ে সারিয়াকান্দির ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ডোমকান্দি গ্রামে বাঙ্গালী নদীতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। নদীভাঙন শুরু হলে স্থানীয়রা বসতবাড়ির পণ্য অন্যত্র সরিয়ে নেন। তার পরও পানির তোড়ে গাছপালা ও বসতবাড়ির আঙিনা নদীগর্ভে বিলীন হয়।

চান্দিনা নোয়ারপাড়া গ্রামের মনু মিয়া জানান, বাঙ্গালী নদীতে যতটুকু পানি বেড়েছে, তার চেয়ে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ক্ষতি বেশি হয়েছে। বৃষ্টির পর নদীর পানির ঢেউয়ে পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। পাড় নরম হয়ে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। কিন্তু ভাঙনটি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বেশকিছু বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। সে পরিবারগুলো অন্যত্র চলে গেছে। চাষের জমিও ভাঙছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নদীভাঙন রোধে কাজ করা হবে। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে নিতে প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করা হচ্ছে।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান জানান, বাঙ্গালী নদী ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শুরু হয়েছে। পরিদর্শন করে কৃষকের ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।