দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে এসেছে বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ২০০৬ সালে ছিল ২৫ শতাংশ, বর্তমানে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আমাদের সবার প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে।’

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেলে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।  

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সামাজিক খাতে এবারের যে বাজেট বরাদ্দ তা জিডিপির প্রায় আড়াই শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জন্য বরাদ্দও বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯টি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। সিলেট এবং ঢাকায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য পাইলট ভিত্তিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। তাদের ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে ৫০ বছর বয়সের যে সীমা রয়েছে, সেটিও তুলে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে হিজড়া হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই তারা ভাতা পাবেন। বয়সের এই শর্তের কারণে প্রতি বছর তাদের বরাদ্দ ফেরত যাচ্ছিল।’

মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট সানজিদা খানম। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের যে মূলমন্ত্র কাউকে বাদ দিয়ে নয়।  বেসরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সাথে বর্তমান সরকারও এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার খাদ্য ও অর্থ সহায়তা, প্রশিক্ষণ, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সব অংশীদারিত্বে সমন্বয় থাকলেই আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রকৃত উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক জাকিয়া আফরোজ বলেন, ‘অধিদপ্তরের ভিজিডিসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যা আরো উন্নত করার প্রক্রিয়া চলছে। গর্ভবতী মায়েদের ভাতা সরাসরি তাদের ব্যাংক একাউন্টে চলে যায়।’

সভায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের চেয়েও দশ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিবেচনায় রাখা হয়েছে বর্তমান বিশ্ব ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়টিও। কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে যুক্ত করলে তাদের ক্ষমতায়ন টেকসই হবে।’

মতবিনিময় সভায় সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষক আহমেদ বোরহান। তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি একটি জটিল ও বহুমাত্রিক কাঠামো, যা প্রায় ১১৯টি কর্মসূচির সমন্বয়ে, সরকারের ২৫টি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।

ইএলএমসি প্রকল্পের অধীনে পরপর দুই বছরে (২০২৩ ও ২০২৪) রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা বিভাগের ৮টি জেলার ৭৩টি উপজেলায় পরিচালিত হয় এই সামাজিক নিরীক্ষা কার্যক্রম। এটি পরিচালনায় মূল ভূমিকা পালন করেছে এসব উপজেলায় নাগরিক সমাজের সদস্য ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এডভোকেসি নেটওয়ার্ক কমিটি বা এএনসি। এই সামাজিক নিরীক্ষায় প্রথম বছরে মোট ২৭৯৫ জন উত্তরদাতা অংশগ্রহণ করেছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে ২৪৬০ জন সেবাগ্রহীতা এবং ৩৩৫ জন সেবা প্রদানকারী। দ্বিতীয় বছরে মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৪২৮৩ জন, যাদের মধ্যে ৩৯৭১ জন সেবাগ্রহীতা এবং ৩১২ জন সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সাথে যুক্ত ছিলেন।