সিলেটের বিয়ানীবাজারে খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশনার পাশাপাশি উচ্ছেদের নোটিস দিলেও দখলদাররা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্থাপনা নির্মাণে খালটি ছোট হয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই খালের পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে বাড়িঘর ও ফসলের কক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার দাসউরা-বিবিরাই বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে ঝরাপাতা খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। খালের ৮০ শতাংশ অংশের মধ্যে পিলার ও কলাম নির্মাণের পর মেঝে ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কয়েকজন শ্রমিক। মেঝের ওপর শ্রমিকরা গাঁথুনির কাজ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কামারকান্দি গ্রামের মৌরউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ওই পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। তবে মৌরউদ্দিনের মেয়ে ঝুমা বেগম জানান, তারা খালের জমি ইজারা নিয়ে খামার তৈরির উদ্দেশ্যে অস্থায়ী ভবন নির্মাণ করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন খালটি দখলদারদের কবলে চলে যাওয়ায় এবং খনন না হওয়ায় এখন শুধু সেচ ও পানি নিষ্কাশনে খালটি ব্যবহৃত হচ্ছে। দখল হওয়ার কারণে ঝরাপাতা খালটির পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন কৃষক বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তিলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খাল দখল হওয়ায় জলবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক। কারণ খালের উল্টো দিক দখল করায় ভাটি এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অনেক জমি অনাবাদি রয়েছে।’
এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, সরকারি খালে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণসংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছেন। সরজমিন তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।










