কারফিউ জারির পর রাজধানী ঢাকার আবাসিক ও অনাবাসিক এলাকাগুলোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে দেখা গেছে রাজধানীর সাধারণ মানুষকে। গতকাল রাজধানী ঢাকার বাংলামোটর, গুলশান, মহাখালী, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার নিশ্চয়তা না দেখে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, তেল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগাম সংগ্রহে রাখছেন তারা।
দেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন কোটা আন্দোলনের সমন্বয়করা। বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী সহিংসতা বাড়লে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার শুক্রবার দিবাগত রাতে সারা দেশে কারফিউ জারি করে। এতে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারফিউ জারির কারণে সবাই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে শঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন। বাসা থেকে বের হয়ে বাজারে যেতে ভয় কাজ করছে তাদের মধ্যে। তাই বাসা থেকে একবার বের হলে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনে সংগ্রহ করে রাখছেন।
মহাখালীর অদূরে টিবি হাসপাতালের গেট এলাকার এক দোকানি বলেন, ‘সকালে কোনো বিক্রি ছিল না। তবে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত স্বাভাবিক বেচাকেনার চেয়ে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে বিক্রি হয়েছে।’ পাইকারি বাজারের অবস্থা জানতে ঢাকার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারের দুজন আলু ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। আলুর আড়তদার রফিক উদ্দিন (ছদ্মনাম) বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) অন্যান্য দিনের চেয়ে অধিক পরিমাণে বিক্রি হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।’
অন্যান্য দিনের চেয়ে এদিন আলুর দাম বেড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দাম আগের মতোই আছে।’ পেঁয়াজের এক পাইকারি বিক্রেতা বলেন, ‘কারফিউর কারণে আজ (গতকাল) পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ আসেনি। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ দিতে পারিনি।’










