পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংকট শুধুমাত্র সেনাবাহিনীকে দিয়ে নয় বরং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও সমাজের অন্যান্য অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে বলে মত দিয়েছেন রাওয়ার মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা।
আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীতে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) এর হেলমেট হলে ‘সমস্যা সংকুল পার্বত্য চট্টগ্রাম : শান্তির অন্বেষণ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।
রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে ওই অঞ্চল ধরে রাখা কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আছে। কিন্তু এটি রক্ষার জন্য জাতি ও রাজনীতিবিদদের এক হতে হবে। শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে চলবে না। ভারতের কাশ্মীর রক্ষায় বিমানবাহিনীসহ একাধিক বাহিনী কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাও যৌথভাবে মোকাবেলা করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ হিসেবে ধরে রাখা যাবে কি না তা এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এ সংকট নিরসন সম্ভব নয়।
মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘শান্তি চাইলে অশান্তি দূর করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, চীনা দার্শনিক সান জুর ‘দি আর্ট অব ওয়ার’, ভারতীয় দার্শনিক চাণক্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ এবং ইতালীয় দার্শনিক নিকোলো মেকিয়াভেলির ‘দ্য প্রিন্স’ বই থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরি।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সমরনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই। স্থায়ী হলো কেবল নিজের দেশের স্বার্থ। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিগত ঐক্যের বিকল্প নেই।’
আলোচনায় বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট মোকাবেলায় সামরিক কৌশলের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।










