ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘যাদের ওপর হামলার হুমকি রয়েছে, আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। যে-ই হোক, যে দল-মতেরই হোক, যে ধর্মেরই হোক, সেটা আমরা করব। আমরা অবশ্যই চাইব না দেশে বিচারবহির্ভূত কোনো অ্যাকশন তাদের ওপর হোক।’

গতকাল বিকালে রাজশাহী সেনানিবাসে এক ব্রিফিংয়ে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তবে আশ্রয় দেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে বা তাদের নামে মামলা হয়, তাহলে অবশ্যই তারা শাস্তির আওতায় আসবেন।’

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের মতো কিংবা অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো সেনাবাহিনী কঠোর হবে না। আমরা এ সরকারকে সর্বতোভাবে সাহায্য করব। সরকার কিছু সংস্কার করতে চাচ্ছে এবং একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাচ্ছে। এজন্য যে ধরনের সহায়তা তারা আমাদের কাছে চাইবেন, আমরা সেটা দেব।’

পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করাটা জরুরি জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘অনেকগুলো উদ্ধার হয়েছে, অভিযানও চলছে। আশা করি, বাকি অস্ত্রও উদ্ধার হয়ে যাবে।’

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আনসার, র‍্যাব, বিজিবিসহ সবার সঙ্গেই কথা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত হয়ে এসেছে। আমি বলব যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে। পুলিশ কিছুটা ট্রমার মধ্যে আছে। ট্রমাটা কাটিয়ে উঠলে পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে। পুলিশ এরই মধ্যে বিভিন্ন থানায় কাজ শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশকে প্রটেকশন দিয়ে যাচ্ছি। তারা সম্পূর্ণভাবে যখন কাজকর্ম শুরু করে দেবে, তখন পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আর তখন আমরা সেনানিবাসে ফেরত যাব। সেই পর্যন্ত আমরা থাকব এবং কাজ করে যাব। রাষ্ট্রের সংস্কার শেষে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনে সেনাবাহিনী বর্তমান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশী কোনো চাপ আছে কিনা, এমন প্রশ্ন করেন এক সংবাদকর্মী। জবাবে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘কোনো চাপ নেই। তবে মাইনরিটি ইস্যু নিয়ে কিছু কথাবার্তা হয়েছে। ২০টি জেলায় ৩০টির মতো মাইনরিটি রিলেটেড অরাজকতা হয়েছে। এটা অবশ্যই কাম্য নয়, একটা হওয়াও কাম্য নয়। আমরা বিষয়টি দেখছি এবং যারা অপরাধী, অবশ্যই তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসব ইনশা আল্লাহ।’

গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার প্রসঙ্গও ওঠে ব্রিফিংয়ে। সেনাপ্রধান বলেন, ‘সেখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন একদম স্বাভাবিক। তাদের নেতারা এসেছেন, আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে যারা এ অপরাধ করেছেন, তদন্ত হবে, যারা এ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে, বিচার হবে।’ 

এর আগে সেনাপ্রধান রাজশাহী সেনানিবাসের বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এরপর তিনি স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাজশাহী অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-৫ ও বিজিবি কর্মকর্তারাও।