ডিজিটাল অর্থনীতির টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে রাজধানীকেন্দ্রিক উদ্যোগের বাইরে গিয়ে উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সেবা এবং দক্ষতা বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০০টি উপজেলায় উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি সেবা ও প্রশিক্ষণ পৌঁছে দেয়া জরুরি। এরই মধ্যে ১০০টি উপজেলায় কেন্দ্র প্রস্তুত হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরো ১৭৯টি কেন্দ্রের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ের আইসিটি কর্মকর্তাদের কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অফিস স্পেস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কো ওয়ার্কিং স্পেস নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের আইসিটি দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইসিটি সহায়তা দেয়া হবে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরো বলেন, আইডিয়া, স্টার্টআপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রগুলো সারা বছর কার্যকর রাখা হবে। সে কারণে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, উপজেলা আইসিটি সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন টিউ আইসিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি জানান, ৪ শত উপজেলার লক্ষ্যের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৩০৩টি কেন্দ্র সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি কেন্দ্র আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো।

সচিব বলেন, আইসিটি বিভাগ ডিজিটাল অবকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ও তার বিশেষ সহকারীর দিকনির্দেশনায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি কেন্দ্রে আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব, প্রশিক্ষণ কক্ষ, স্টার্টআপ জোন এবং প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন থাকবে। স্টার্টআপ জোনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইসসহ একসঙ্গে অন্তত ২০ জন উদ্যোক্তা বা ফ্রিল্যান্সার কাজ করার সুযোগ পাবেন।

উদ্যোগটি উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কাজের জায়গা নিশ্চিত করবে। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হবেন।

প্রতিটি প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন থেকে বছরে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ডিজিটাল সেবা নিতে পারবে। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্র উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি কর্মকর্তাদের কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা প্রদানে গতি আনবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ, আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।