ভারতীয়
ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মাঝে কমে গেছে যাত্রী পারাপার। ভিসা পেতে বিলম্বের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা, ব্যবসা, ভ্রমণ ও শিক্ষাসহ নানা
কাজে ভারতে যাওয়ার যাত্রীরা। এদিকে যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ায় কমেছে সরকারের রাজস্ব আহরণ। তবে সিস্টেমে পরিবর্তন আনায় ভিসা পেতে যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধা হলেও দেরি হচ্ছে না বলে দাবি
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
ভারতে যাওয়া পাসপোর্টধারী যাত্রী সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘ভারতীয় ভিসা পেতে আমাদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এখন ভিসার জন্য আবেদন করলে দু-তিন মাস পর তারিখ দেয়া হচ্ছে। এরপর সেই তারিখে বই জমা দেয়ার এক মাস পর ভিসা মিলছে। সব মিলিয়ে দু-তিন মাস এমনকি চার মাস পর্যন্ত সময় লাগছে ভারতীয় ভিসা পেতে। আমরা যারা চিকিৎসাসহ অন্যান্য কাজে ভারতে দ্রুত যেতে চাই। কিন্তু ভিসা পেতে ধীরগতির কারণে সঠিক সময়ে যেতে পারছি না। আমরা চাই আগের মতো ৭-১৫ দিনের মধ্যে ভিসা দেয়া হোক। সেই সঙ্গে ভিসার যে মেয়াদ সেটি ছয় মাস ত্রিপল এন্ট্রি না দিয়ে এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল ভিসার দাবি জানাচ্ছি।’
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সহকারী ইনচার্জ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া অধিকাংশ যাত্রীই চিকিৎসার জন্য যান। সেই সঙ্গে কেউ ব্যবসা, ভ্রমণ আবার কেউ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান। তবে সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশের মাঝে যাত্রী পারাপার কিছুটা কমে এসেছে।’
হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, ‘আগে এ চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ৬০০-৬৫০ জন যাত্রী পারাপার হতো। বর্তমানে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা কমে আসছে। কিছুদিন ধরে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ জন যাত্রী পারাপার হচ্ছে। এতে কমে গেছে রাজস্ব আহরণ। দুদেশের মাঝে যাত্রী পারাপার বাড়লে রাজস্ব আহরণও বাড়বে।’
এ বিষয়ে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার বলেন, ‘ভিসা পেতে দেরি হচ্ছে না। সিস্টেমের কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর কোনো নতুন সিস্টেম চালু হলে সেটির সঙ্গে মানুষের অভ্যস্ত হয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে। আগে ভিসা সেন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এতে করে বয়স্ক ও চিকিৎসার জন্য ভিসার আবেদন করা ব্যক্তিদের কষ্ট করতে হতো। এ কারণে এখন আমরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করেছি। এখন তারা ঘরে বসেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন নির্ধারিত সময়ে ভিসা সেন্টারে গিয়ে আবেদন করেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে কিছুটা সময় লাগছে তবে আবেদন জমা দেয়ার পর ভিসা দ্রুত পাচ্ছেন।’
সব কিছুর একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছ, লোকবল সংকট রয়েছে। এসবের ওপর নির্ভর করে আমরা কত ভিসা ইস্যু করতে পারব। তবে ক্যান্সার রোগীদের এক থেকে তিনদিনের মধ্যে ভিসা দেয়া হচ্ছে। বাকি রোগীদের এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভিসা দেয়া হচ্ছে। ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে। আর এমন তো না এখন তারা না গেলে কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।’









