সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার আরবাব ইউনিয়নের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের সন্তান কর্পোরাল মাসুদ রানা (৩০) ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মো. সবুজ মিয়া। তাদের মৃত্যুতে নিজ নিজ এলাকায় বইছে শোকের মাতম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা লালপুর উপজেলার আরবাব ইউনিয়নের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের সাহার উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন মাসুদ রানা।
গত ৭ নভেম্বর স্ত্রী ও আট বছরের মেয়ে মাগফিরাতুল মাওয়া আমিনাকে রেখে শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে সুদানে যান তিনি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) তার মৃত্যুর খবর প্রথম জানতে পারেন তার ছোট ভাই সেনা সদস্য রনি আলম। পরে তিনি বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাড়ির উঠোনজুড়ে কান্না আর হাহাকারে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
ছেলের মৃত্যুর খবরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন শহীদের মা মর্জিনা খাতুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, গতকালই ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। ডিউটির কষ্টের কথা জানতে চাইলে সে বলে, মা এখন আর কষ্ট নাই, ডিউটি কম। আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলে নিজেই চলে গেল।
স্বামীর মৃত্যুসংবাদে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী আসমাউল হুসনা আঁখিও। রানার মৃত্যুর খবরে বোয়ালিয়াপাড়া ও আশপাশের গ্রাম-ও স্তব্ধ হয়ে গেছে। শোকে স্তব্ধ প্রতিবেশীরাও।
একই হামলায় নিহত আরেক শান্তিরক্ষী সবুজ মিয়া পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভগবানপুর) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হাবিবুর রহমান ও ছকিনা বেগমের ছেলে।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭-৮ বছর আগে সবুজ মিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লন্ড্রি কর্মচারি হিসেবে যোগ দেন। এক বছর আগে বিয়েও করেছেন তিনি।
সবুজ মিয়ার মৃত্যুর খবরে তার মা, স্ত্রীসহ স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। একই সঙ্গে পুরো গ্রামজুড়েই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ জানান, নিহতের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।










