বাগেরহাটের মোল্লাহাটের একটি মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে ২০ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার গভীর রাতে উপজেলার আড়িয়াকান্দি এলাকায় শহিদুল্লাহ ও রহিম মিয়া বাদশার তিন একর আয়তনের যৌথ ঘেরে এ বিষ প্রয়োগ করা হয়। বিষক্রিয়ায় ঘেরে চাষ করা বিপুল পরিমাণ রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া ও চিংড়ি মাছ মরে পানির উপরে ভেসে উঠেছে।
এ ঘটনায় শহিদুল্লাহ বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ঘেরের কর্মচারী আবু হানিফ বলেন, রাতে ঘেরের পাশে বানানো ঘরেই ছিলাম। ফজরের আজানের কিছু আগে টের পাই মাছ লাফাচ্ছে। লাইট মেরে দেখি প্রচুর মাছ লাফাচ্ছে। বুঝতে পারলাম মাছের কোন সমস্যা হয়েছে। সাথে সাথে মালিককে মুঠোফোনে বিষয়টি জানাই। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাছের লাফালাফি বন্ধ হয়ে যায় এবং সকল মাছ মারা যায়। সকাল থেকেই মরা মাছ ভেসে উঠতে থাকে।
প্রতিবেশী বৃদ্ধ জাফর মোল্লা বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ মাছ চাষ করে। অনেক টাকা বিনিয়োগ এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় মাছ বিক্রি করতে। কিন্তু দুর্বৃত্তদের বিষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সকল মাছগুলো মরে গেল শহিদুল্লাহর ঘেরের। এভাবে চললে মাছ চাষ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
স্থানীয় ঘের মালিক ফোরকান মোল্লা বলেন, বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারায় শহিদুল্লাহর ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এই ঘটনার সুস্থ্য বিচার ও শহিদুল্লাহর ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষী শহিদুল্লাহ বলেন, আড়িয়াকান্দি মৌজায় একটি পতিত জমি লিজ নিয়ে রহিম মিয়া বাদশাকে সাথে নিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে। আমার এত কষ্টের ফসল যারা নষ্ট করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।









