অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা মিশনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মো. তৌহিদুল ইসলামকে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হলে দেশটির সরকার তাকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। এ কূটনীতিকের বিরুদ্ধে তার সহকর্মীরা ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ এনে তার পক্ষ নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘কিছু মানুষের চরিত্রই হচ্ছে অন্যের ভালো না চাওয়া, এ তালিকায় আছে মিডিয়াও। ওপরে ওঠানোর চেষ্টা কেউ করেন না, শুধু নামানোর চেষ্টা করেন।’ সিলেটের চাঁনপুর এলাকায় গতকাল সুরমা নদীর খননকাজের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তৌহিদুল ইসলাম বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। এ কূটনীতিককে ‘ভেরি গুড অফিসার’ এবং ‘তুখোড় ছেলে’ উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কূটনীতিক মো. তৌহিদুল ইসলামকে অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব নাকচ করার পেছনে মন্ত্রণালয়ের সহকর্মীরা জড়িত। তবে আমি তার পক্ষ অবলম্বন করে যাব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার (তৌহিদুল) শত্রু আছে। সে যখন মিলানে কনসাল জেনারেল ছিল, কোনো একটা মেয়েকে তার পেছনে লাগিয়ে দেয়। একটা কেলেঙ্কারির চেষ্টা করে। তখন তাকে উইথড্র করা হয়, সাসপেন্ড করা হয়, অনেক ইনভেস্টিগেশন করা হয়। এতে সরকারের অনেক টাকা, আপনাদের (জনগণের) টাকা খরচ করা হয়। পরে দেখা যায় একেবারে বানোয়াট। তারপর তার প্রমোশন হয়, তারপর অ্যাম্বাসেডর হয়। এখন তার বিরুদ্ধে আবার লাগছে একদল, তারই বন্ধুবান্ধব হবে। আর না হয় পত্রিকায় এগুলো গেল কীভাবে? হি ইজ আ ভেরি গুড অফিসার। আমি যদ্দিন আছি, আই উইল ডিফেন্স হিম।’

ইতালির মিলানে কনসাল জেনারেল হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ২০১৩ সালে তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। সে কারণেই তৌহিদুলকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অস্ট্রিয়া গ্রহণ করছে না বলে কূটনীতিসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।