আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি সম্মান জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি, বাস্তবায়নের ধাপ (সিকোয়েন্সিং) এবং সামগ্রিক নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে আইএমএফের বাংলাদেশ ও হংকংবিষয়ক মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় এবং আইএমএফও এ বিষয়ে একমত।
তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে। একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতাকেও আইএমএফ গুরুত্ব দিয়েছে। জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চার মাসে রাজস্ব আদায়কে উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হয়েছে। ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সরকারের প্রস্তাব নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
ভর্তুকির বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বা বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আপাতত নতুন কর্মসূচির ভিত্তি নির্ধারণ নিয়েই আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরো জানান, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার সময় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং সেই ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।









