দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের কৃষ্ণ বালা (৪৫)। ২০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করতেন তিনি। কিন্তু এ থেকে যা আয় হতো তা দিয়ে ছোট ছেলেকে নিয়ে সংসার চলছিল না কৃষ্ণ বালার। একসময় কৃষিকাজের পাশাপাশি শুরু করেন কুমড়া বড়ি তৈরি, যা তার সংসারে বাড়তি অর্থের জোগান দিত। ২০ বছরের ব্যবধানে এখন প্রতিদিন ১০ কেজি করে কুমড়া বড়ি তৈরি করছেন তিনি।

শুধু কৃষ্ণ বালাই নয়, এ গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরের নারী-পুরুষ অক্টোবর থেকে কুমড়া বড়ি তৈরি শুরু করেন। চলে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি পরিবারই কমপক্ষে ২০ মণ বড়ি তৈরি করতে পারে, যা দিনাজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নেন। মানভেদে এক কেজি বড়ি ২৫০-৩০০ থেকে টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

সরেজমিন বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই চলছে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম। বাড়ির আঙিনা এবং আশপাশে মাচায় মাচায় শোকানো হচ্ছে এসব বড়ি। নারী-পুরুষ সবাই মিলে এ কাজ করছেন। অনেককেই মেশিনে কলাই ভাঙতে দেখা গেছে। আবার কেউ কলাই সানছেন, কেউবা মাচায় বড়ি সাজাচ্ছেন। অনেককেই রোদে বড়ি শুকোতে দেখা গেছে।

গ্রামের কাওসার আলী বলেন, প্রথমে জাতায় মাষকলাইগুলো ভাঙানো হয়, এরপর সেগুলো কুলো দিয়ে ঝাড়ার পর ৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর আবারো সেই ভেজা কলাইগুলো ঘষে ওপরে থাকা কালো আবরণ আলাদা করে পুনরায় সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পরদিন কলাইগুলো মেশিনে দিয়ে খামি করা হয়। এরপর সেই খামিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দিয়ে বড়ি তৈরি করে সেগুলো বাঁশের তৈরি মাচায় শুকানো হয়। দুদিন রোদে শুকানোর পর তা খাবার উপযোগী করা হয়। প্রতি এক কেজি কলাইয়ে ৭০০ গ্রাম বড়ি তৈরি হয়। প্রতি কেজি বড়ি প্রকারভেদে ২০০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল জানান, উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের বড়ি স্বাদে ও গুণে ভালো হওয়ায় এখানকার বড়ির চাহিদা ও কদর বেড়েই চলেছে। ওই গ্রামের অনেকেই অন্যান্য পেশার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় কুমড়া বড়ি তৈরি করছেন। এতে বছরের অর্ধেক সময় বড়ি তৈরিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিশ্বনাথপুর গ্রামের বড়িকে জনপ্রিয় করতে কৃষি বিভাগ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।