বরিশালের নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিন্মাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি। অনেক এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত তিনদিন যাবত দক্ষিণাঞ্চলের সব নদনদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিনদিন তা অব্যাহত থাকবে।

বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগরের বাসিন্দা উম্মে রুম্মান জানান, কীর্তণখোলার তীর ঘেষা ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের খ্রিস্টানপাড়া, পূর্ব রূপাতলীসহ বড় এলাকাজুরে সড়ক ও বসতবাড়ি গত তিন থেকে চার দিন যাবত পানির নিচে তলিয়ে আছে। কিছু কিছু বাড়ির ঘরের মধ্যেও পানি ঢুকে পড়েছে। ভাটার সময় পানি কমলেও পুরোপুরি নামছে না পানি।

মেঘনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ নিচু এলাকা গত কয়েকদিন যাবত পানির নিচে তলিয়ে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল ঢালী জানান, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনা তীরবর্তী সব চর গত কয়েকদিন পানির নিচে তলিয়ে আছে। এতে দুর্ভোগে আছেন চরের বাসিন্দারা।

বানারীপাড়ার উপজেলার উমারেরপাড়া, মরিচবুনিয়া ও স্বরূপাকাঠীর বলদিয়া ইউনিয়নের চামি ও গগণ এলাকার নিম্নাঞ্চল সন্ধ্যা নদীর জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে।

পাউবোর দেয়া তথ্যমতে, মেঘনার পানি ভোলার তজুমউদ্দিন পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার, দৌলতখান পয়েন্টে ৫৭ এবং বরগুনার বিষখালী নদীর পানি ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বরিশাল নগরীর পাশ দিয়ে প্রবাহিত কীর্তণখোলা নদী, পিরোজপুরের বলেশ্বর নদী, পটুয়াখালীর পায়রা-বুরেশ্বর নদী এবং বরগুনার বিষখালী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। 

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের বুড়িশ্বর-পায়রা নদীর পানি বিপত্সীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী নদীর পানি বিপত্সীমার ৫ সেন্টিমিটার, পাথরঘাটার বিষখালী নদীর পানি ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার ও উমেদপুরের কচা নদীর পানি বিপত্সীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে সমুদ্রের পানি ঢুকে চম্পাপুর, লালুয়া, ধানখালী ও মহিপুর এই চার ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লালুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুস ফরাজি এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিভাগের মোট ২৩টি নদীর পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতটি নদীর পানি বিপত্সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বিভাগের অনেক নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। প্রচণ্ড বাতাস ও পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী উত্তাল রয়েছে। এর মধ্যেও নৌকা ও ট্রলারে করে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।