সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলী আকবর রাজনের মুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার কোনো যানবাহন সিলেট ছেড়ে যাচ্ছে না এবং অন্য এলাকা থেকেও সিলেটে কোনো যানবাহন আসছে না।

আজ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ছয়টা থেকে এই কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। এর আগে গত রোববার বিকেলে এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেন সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ময়নুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। সড়কের পাশে রাখা বাসের সারি। তবে সড়কে ছিল পর্যাপ্ত যাত্রী। অনেককে ব্যাগ হাতে সড়কে দাঁড়িয়ে দূরপাল্লার যানের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

সিলেট কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকেও ছেড়ে যায়নি কোনো বাস। বিপুলসংখ্যক যাত্রী গাড়ির জন্য সড়কে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

ছাতকে যাওয়ার জন্য ওই বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষমান যাত্রী স্কুল শিক্ষক আব্দুল কাদের জানান, তিনি প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করেন। সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে বিপাকে পড়েন। পরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মবিরতি পালন ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন আলী আকবর রাজন। দেড় মাস থেকে তিনি কারাগারে বন্দি আছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তার জামিনের জন্য বারবার আবেদন করা হয়েছে। এমনকি বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমিতির পক্ষ থেকে স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে। এরপরও তার জামিন দেয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জামিন না হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। রাজনের মুক্তির দাবিতে প্রয়োজনে বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মবিরতির ডাক দেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট নগরের সুরমা মার্কেট এলাকা থেকে একটি মামলায় আলী আকবর রাজনকে গ্রেফতার করে সিলেট মহানগর পুলিশ। শ্রমিক ইউনিয়নের পাশাপাশি তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

গ্রেফতারের পর সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মাহমুদ বলেছিলেন, পুলিশের নিয়মিত কার্যাবলির অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনায় একটি মামলায় রাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।