বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠির জমিদার জানকী বল্লভ রায় চৌধুরীর ৩০০ বছরের পুরনো বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ইট, সুরকি আর পোড়ামাটির কারুকার্যঘেরা প্রায় দুই বিঘা জমিজুড়ে এ জমিদারবাড়ি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটি এখন ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জমিদারবাড়িটি ভেঙে ফেলার কার্যক্রম চালান আট শ্রমিক। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ জমিদার রাজেশ্বর রায় চৌধুরী মারা গেলে ওয়ারিশ হিসেবে তার বোন মিনা দেবী চৌধুরী মালিক হন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছেলে বাবু চৌধুরী ওয়ারিশমূলে মালিক হন। তিনি মারা গেলে তার স্ত্রী ববিতা মুখার্জি ও তার তিন ছেলে প্রীতম মুখার্জী, অপু মুখার্জি, তপু মুখার্জী
মালিকানা দাবি করেন। প্রীতম মুখার্জী, অপু মুখার্জি, তপু মুখার্জী একটি লিখিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে জমিদারবাড়িটি ভেঙে ফেলার জন্য ঠিকাদার মোবারককে দায়িত্ব দেন।
এ বিষয়ে প্রীতম মুখার্জী জানান, জমিদারবাড়িটি আমাদের পূর্বপুরুষের। বাড়িটি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আদালতে মামলা চললেও অনেক আগেই রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। এখানে সরকারের কোনো দায়িত্ব নেই। বাড়িটি জরাজীর্ণ
হয়ে যাওয়ার কারণে ঠিকাদারের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আমরা নতুন ভবন নির্মাণ করব।
এ বিষয়ে কলসকাঠির মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাদশা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠির তেরো জমিদারবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয়রা জানান, কলসকাঠি এলাকার তেরো জমিদারবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথচ তের জমিদারের বসবাসস্থল কলসকাঠিকে ঘিরে রয়েছে প্রায় ৫০০ বছরের ইতিহাস। জমিদারবাড়ির প্রবেশপথে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মঠ, বেশকিছু ভাঙা মন্দির ও সংস্কারের অভাবে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বেশকিছু বাড়ি। পাশেই রয়েছে শানবাঁধানো একটি পুকুর। প্রতি বছরের নভেম্বর মাসে এখানে ঐতিহ্যবাহী জগদ্বাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ পূজাকে ঘিরে কলসকাঠি পরিণত হয় লাখো মানুষের মিলনমেলায়। দ্বিতল জমিদারবাড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা চলে গিয়েছে অন্দরমহলের দিকে। সিঁড়িপথ উঠে গিয়েছে ওপরে। সিঁড়িপথের নিচে রয়েছে আরেকটি দরজা, যেটা দিয়ে বাড়ির মূল অংশে প্রবেশ করা হয়। পুরো বাড়িটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হলেও ঐতিহ্যবাহী বাকেরগঞ্জের কলসকাঠির জমিদারবাড়িকে ঘিরে থেমে নেই পর্যটকের ভিড়।
ইতিহাস ঐতিহ্যখ্যাত এ জমিদারবাড়িতে প্রতিদিন সব বয়সের মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। সরকারি উদ্যোগে তেরো জমিদারের বসবাসস্থল বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে শিগরিই পুরো বাড়িটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্রশীল জানান, ঘটনাটি শোনার পর তাত্ক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বাড়ির মালিকানা দাবিদারদের তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী নির্দেশনা দেয়া হবে।









