দিনাজপুরের হিলিতে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে বাড়ির প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখে দুদিন ধরে দুটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে প্রবেশপথ থেকে বাঁশের বেড়া সড়িয়ে ওই দুই পরিবারকে মুক্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

আজ শনিবার বিকেলে হিলির মুর্শিদপুর গ্রামের ওই পরিবার দুটিকে মুক্ত করা হয়। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ওই গ্রামের আমিনুল হাসান রুবেল গত বুধবার বিকেলে একই গ্রামের মাহাবুব ও আসলামের বাড়ির মেইন দরজার সামনে বাঁশ ও বড়ই গাছের কাঁটা দিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এতে করে ওই দুই পরিবার দু’দিন থেকে বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

অবরুদ্ধ পরিবারের মাহবুবুর রহমান বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে আমিনুল হাসান রুবেল আমার বাড়ির সামনের জমিটি তার নিজের বলে দাবি করে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মেইন দরজার সামনে বাঁশ ও বড়ই গাছের কাঁটা দিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশের পথ অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছিলাম না। পরে ইউএনও স্যার লোক মারফত জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমাদের বাড়ির গেটের সামনের বাঁশ ও বড়ই গাছের ডাল সরিয়ে ফেললে আমরা বাড়ির বাইরে বের হই।

তবে ইউএনও চলেও যাওয়ার পর আবারো অভিযুক্তরা হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আমিনুল হাসান রুবেল বলেন, ‘কিছুদিন আগে তিনশতক জায়গা কেনা হয়, কিন্তু জায়গাটির সীমানা নির্ধারণ করে নেয়া হয়নি। জায়গা নিয়ে ঝামেলা চলছেই। সেই জায়গাতে অনুমান করে আমার বড়ভাই লাউয়ের গাছ লাগাতে গেলে আমার চাচার (মাহবুবুর রহমানের বাবা) সাথে তর্ক-বিতর্ক হয়।’ এসময় মাহবুবুর রহমান তাকে (রুবেলের বড় ভাইকে) কোদাল দিয়ে কোপাতেও আসেন বলে অভিযোগ করেন রুবেল। 

তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, ‘আমার নামে জায়গার উপর দিয়ে চাচারা চলাফেরা করেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে যেহেতু আমার সম্পর্ক ভালো না, যেহেতু ঝগড়া বিবাদ লাগছে তাই তাদের বাড়ির অন্যপাশ দিয়ে গেট খুলে তা ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করি। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমি বাঁশ দিয়ে ঘেড়া দিয়েছি।’ 

এজন্য ভুলও স্বীকার করেন রুবেল। তিনি বলেন, ‘নিজেদের (আত্মীয়স্বজন) মধ্যে কলহ করে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমি নিজেকে অপরাধী মনে করছি, ভুল করেছি।’ 

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, বাশের বেড়া দিয়ে বাড়িতে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এমন খবর জানতে পেরে আজ শনিবার বিকেলে হিলির মুর্শিদপুরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় বাঁশের বেড়া সড়িয়ে দিয়ে বাড়িতে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিবাদ চলে আসছিল, সে কারণে জমি নিয়ে কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে বসে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য বলেছি।