নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ক্লাস চালু হলেও বরিশাল জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশ। গত ২ মাস ১৫ দিনে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতিকে হতাশাজনক বলে মনে করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের ফেরাতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। 

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির আগে জেলার ১০টি উপজেলার ১ হাজার ৫৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচটি শ্রেণিতে ২ লাখ ২৩ হাজার ১৭৪ শিক্ষার্থী নিয়মিত ছিল। এবার দীর্ঘ বন্ধের পর বিদ্যালয় খোলার প্রায় আড়াই মাস পরও সেখানে ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ জন। নিয়মিতভাবে ক্লাসে অনুপস্থিত রয়েছে ৩৯ হাজার ৮২৪জন। 

জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মধ্য আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসান মাহমুদ সাইদ বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে কওমি মাদ্রাসাগুলো খোলা থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তি হয়ে চলে গেছে। আর দু’একজন কাজের জন্য স্থান পরিবর্তন করে অন্য কোথাও চলে গেছে। 

একই কথা বলেছেন বরিশাল নগরীর কিশোর মজলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, মাদ্রাসা খোলা থাকা ও দারিদ্রতার কারণে ঝরে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। পরিবারে অভাব থাকায় অনেক শিক্ষার্থী কাজে যুক্ত হয়েছে।  

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আব্দুল লতিফ মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অভ্যাস পরিবর্তন হওয়ায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছি। বিশেষ করে বিস্কুট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে উপস্থিতি আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারির জন্য দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক বিভাজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরাসরি পাঠদান শুরু হয় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।