ভারতের মতো একই ধরনের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গতকাল বিকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে একটি অস্থায়ী ওয়েভার দিয়েছে। বাংলাদেশও একই ধরনের সুযোগ পাওয়ার আশা করছে। আমরা বলেছি, বাংলাদেশকেও যদি এমন সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে তা আমাদের অর্থনীতির জন্য বড় সহায়ক হবে। বিষয়টি তারা (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) ওয়াশিংটনে পাঠাবে বলে জানিয়েছে।

এখন দেখা যাক কী করে।’ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং নিয়েও কথা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এ বৈঠকে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের বিষয়। এ নিয়ে এখনই আমাদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের স্বার্থে বিষয়টিকে কীভাবে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই আমরা বিবেচনা করছি।’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নেবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধ যদি স্বল্পমেয়াদি হয়, মধ্যমেয়াদি হয় কিংবা দীর্ঘস্থায়ী হয়—প্রতিটি পরিস্থিতি মাথায় রেখে আমরা পরিকল্পনা করছি। আজকের বৈঠকেও এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে, তাহলে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এরই মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোন আলোচনায় তিনি এ ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে গতকাল জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ বক্তব্য মূলত বাজারকে শান্ত করার কৌশলও হতে পারে। রুশ অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ইগর ইউশকভের মতে, বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা কঠিন, কারণ এর বড় অংশই মার্কিন কংগ্রেসের আইনের সঙ্গে যুক্ত।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পেট্রলের দাম বাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাই জ্বালানির দাম কমানোর পথ খুঁজছে হোয়াইট হাউজ।

এদিকে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার জ্বালানি তেল কিনতে ভারতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ৩০ দিনের জন্য ভারতকে এ ছাড় দিয়েছে মার্কিন সরকার।