মে দিবসের পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির দিন আজ। এমন দিনে সাধারণত অল্পকিছু মানুষই সাত সকালে ঘরের বাইরে বের হন। এরপর শুরু হয় সাপ্তাহিক বাজারের ব্যস্ততা। এদিনে রাস্তায় চলাচলে তাদের আনন্দ ম্লান করে দিল ভোর থেকে চলা মুষলধারে বৃষ্টি। আজ ভোর থেকেই রাজধানীর আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে আছে, থেমে থেমে হচ্ছে ভারী বৃষ্টি।
বৃষ্টিতে গত কয়েক দিনের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জুরাইন, পোস্তগোলা, যাত্রবাড়ি, ডেমরা, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও ও তেজগাঁও এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে পানি জমেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আগে থেকেই এসব এলাকার নালা, ডোবা ও মরা খালগুলো টইটুম্বর ছিল। আজ সকালের বৃষ্টিতে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা আরো তীব্র আকার ধারণ করে।
জুরাইন আলমবাগ এলাকার বাসিন্দা আখতার হোসেন জানান, ভোরে বৃষ্টির পর থেকে পুরো আলমবাগ পানিতে ডুবে যায়। নোংরা পানি মাড়িয়ে লোকজনকে চলতে হয়। তবে ছুটির দিন হওয়ায় মানুষজন রাস্তায় কম বের হয়েছে বলে জানান তিনি।
যাত্রাবাড়ির বাসিন্দা কমল সরকার বলেন, যাত্রাবাড়ি প্রধান সড়কও বৃষ্টিতে ডুবে গিয়েছে। অলিগলিতে হাঁটার জো নেই।
চানখারপুলের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে বাজার করতে বের হয়ে দেখি রাস্তাঘাট সব পানিতে ডুবে আছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, খাল জলাশয়গুলো দখল ও অপরিষ্কার রাখার ফলেই অল্প বৃষ্টিতে নগরী ডুবে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ড. আদিল মুহাম্মদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকার সবসময় উন্নয়নের গল্প শোনায়। কিন্তু সে গল্পের ভেতরের ভয়াবহতা ফুটে উঠে বৃষ্টি, বন্যা, আগুন কিংবা যেকোনো দুর্যোগের সময়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরানোর জন্য কাজ করুন। এর জন্য দখলদার, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। দখলদারদের অনেকেই সরকারি দলের নামধারী ও আছেন। কিন্তু এই ধরনের দখলদাররা সবসময়ই পার পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে নতুন নতুন দখলদার তৈরি হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অনেক কর্মকর্তাও দখলদারিত্বের সহযোগী, অনেকেই দূর্নীতিবাজ। এদের বিরুদ্ধেও বড় কোন আওয়াজ সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি। ফলে ঢাকার জনগণের দূর্দশাগ্রস্ত অবস্থার তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না।’










