কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ঝগড়ার জেরে ফরিদপুরের সালথায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেম্বার গট্টি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে সালথা-ফরিদপুর আঞ্চলিক সড়কের ওপর আশেপাশের পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় ওই সড়কে অন্তত তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিলো।

এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মেম্বার গট্টি গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. রফিক মাতুব্বরের সঙ্গে গট্টি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মো. আজিজ মোল্লার বিরোধ ছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রফিকের সমর্থক নুরুল ইসলামের ছেলের সঙ্গে আজিজের সমর্থক মুকুলের মেয়ের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার জেরে শনিবার সকাল ৭টার দিকে রফিকের বাড়ির সামনে সালথা-ফরিদপুর সড়কের ওপর উভয় পক্ষের পাঁচ শতাধিক সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা, টেটা, ভেলা ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পর্যায়ক্রমে সংঘর্ষে আশপাশের অন্তত আরো ১০টি গ্রামের মানুষ অংশ নেয়। এতে সংঘর্ষের রূপ বড় আকার ধারণ করে। সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে স্থানীয় নারী ও শিশুরা অন্যান্য গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

সংঘর্ষের সময় রফিক ও আজিজের বসতবাড়িতে হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে সালথা-ফরিদপুর সড়কে কয়েক ঘণ্টা  যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।

এ ঘটনায়  উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিক মাতুব্বর ও গট্টি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি আজিজ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।  তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পুরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে সংঘর্ষকারীদের বাড়িতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।