ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে গত জুলাই ও আগস্টের শুরুতে দেশজুড়ে সংঘটিত নৃশংসতার ঘটনাগুলো তদন্তে কাজ করবে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। তদন্তের অংশ হিসেবে একটি কারিগরি দল গতকাল ঢাকায় এসেছে। তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন কীভাবে কাজ করবে ও তার কর্মপরিধি কী হবে, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিসের কারিগরি দলটি গতকাল ভোরে ঢাকায় আসে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকের পর জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের প্রধান রুরি ম্যানগোভেন বলেন, ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং তদন্ত নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে। এর মডালিটিস, প্রক্রিয়া, এটি জাতীয় ব্যবস্থাকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এগুলো নিয়ে আলোচনা করব। এটি কীভাবে হবে, তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।’
মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিসের এশিয়া-প্যাসিফিক সেকশনের প্রধান ম্যানগোভেন বলেন, ‘আমরা প্রাক-মূল্যায়নে ছোট একটি দল এসেছি। সরকার ও বাংলাদেশের জনগণকে এ ঐতিহাসিক সময়ে কীভাবে সহায়তা করতে পারি, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ সপ্তাহে আমাদের যে দলটি বাংলাদেশ সফর করছে সেটি তদন্ত দল নয়।’
জানা গেছে, কারিগরি দলটি তদন্তসংক্রান্ত প্রাথমিক মূল্যায়নের লক্ষ্যে সপ্তাহখানেক বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারেন। তাদের সফরের পর ঢাকায় আসবে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর এ প্রথম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পাঠিয়েছে জাতিসংঘ।
এদিকে, গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেন জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস। রিয়াজ হামিদুল্লাহের সঙ্গে প্রথম বৈঠক জানিয়ে গোয়েন লুইস বলেন, ‘জাতিসংঘ কান্ট্রি টিম ও এখানে কর্মরত সব জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিনিধি এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে এখানে আসবে তার (রিয়াজ হামিদুল্লাহ) সঙ্গে কথা বলতে এবং জানাতে তারা কী কাজ করছে, সরকারের অগ্রাধিকার কী এবং জাতিসংঘ কী করতে পারে, সেটি জানতে। আমরা তথ্য-উপাত্ত ও এসডিজি পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলেছি। আমরা সরকারের নতুন যে অগ্রাধিকারগুলো আছে, সেগুলোর বিষয়ে আমাদের কাছে যে সহায়তা সরকার চেয়েছে তা নিয়ে কথা বলেছি। এছাড়া আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিয়ে কথা হয়েছে। ড. ইউনূস ওই অধিবেশনে যোগ দেবেন।’
জাতিসংঘের তদন্ত মিশনের কারিগরি দলের ঢাকায় আগমন নিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করছে। কিন্তু এটি মূল তদন্ত দল নয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল কতদিন কাজ করবে, সরকারের প্রত্যাশা কী এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করবে। বর্তমানে তদন্ত দল কর্মপরিধি কতটুকু হবে, সেটির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে।’










