বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে কেবল বিদেশী প্রযুক্তির ভোক্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং নিজস্ব উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তির উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল সেবায় বিশ্বমঞ্চে ‘‘মেড ইন বাংলাদেশ’’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’
গতকাল বিকালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্কের (বিন) আয়োজনে অনুষ্ঠানের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফকির মাহবুব আনাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘উদ্ভাবন ও গবেষণার সঙ্গে ব্যবসা ও সরকারের কার্যকর সংযোগ তৈরি করা জরুরি। সরকার, ব্যবসা ও একাডেমিয়াকে নিয়ে একটি সমন্বিত প্লাটফর্ম প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও খাতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প পরিচালিত হওয়ায় উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ফলাফলে নেয়া যাচ্ছে না। উদ্ভাবনের সুযোগকে শুধু রাজধানী বা বড় প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক না রেখে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও ছড়িয়ে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ ও তরুণদের প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ দিতে উপজেলা–ইউনিয়ন পর্যায়ে প্লাটফর্ম তৈরির প্রস্তুতি চলছে। বিদ্যমান প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোও পর্যালোচনা করে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের বাস্তব সমস্যা সমাধান করা। প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তৈরি হলেও বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।’ কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আর্থিক সেবার মতো খাতগুলোকে আলাদা কাঠামোয় না দেখে মানুষের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে সমন্বিত প্রযুক্তি প্লাটফর্ম তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কেবল বিদ্যমান কর্মপ্রবাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করলেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে না, কাজের প্রক্রিয়া ও ডেটা ব্যবস্থাপনাও নতুন করে সাজাতে হবে।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২০২৫ সালের ১০৬তম থেকে ২০২৬ সালে ১০৫তম হয়েছে। তবে এ অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য নয়। নিয়মিত উদ্ভাবন মেলা ও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিভা খুঁজে পাওয়া গেলেও পরবর্তী ধাপে বাজার, ইনকিউবেশন ও পাইলটিংয়ের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক উদ্ভাবন হারিয়ে যাচ্ছে।’
বেসরকারি খাতকে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে আরো বেশি যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন বিন-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীর। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কর সুবিধা দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠান গবেষণায় ১০০ টাকা ব্যয় করলে সরকারেরও সমপরিমাণ অর্থ দেয়ার মতো ম্যাচিং গ্রান্ট চালু করা হলে উদ্ভাবন ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়তে পারে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএন এর নির্বাহী পরিচালক রুবাবা দ্দৌলা মতিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিচারকমণ্ডলী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে বুয়েটের ‘এজেন্টআইএএম’; ইউল্যাবের ‘ক্রনিক’; চুয়েটের ‘সিঙ্ক ভি-১: ব্রেইল এমবসার’; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আরবর’ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ পাবলিক কলেজের ‘ব্রেইলব্রিজ’। ব্যক্তিগত বা দলীয় ক্যাটাগরিতে ‘বিন্দো’ পুরস্কার জয় করে।









