বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা রয়েছে। তবে এ চাপ একসঙ্গে জনগণের ওপর না চাপিয়ে ধাপে ধাপে ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে মূল্য সমন্বয় করা যেত বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র নেতারা।

দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে সাত মাসে দুইবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ।

বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আজ তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কৃষি, সেচ, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষক, শ্রমিক, পরিবহন খাত ও সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়বে।

তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টারসহ কৃষিযন্ত্রের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। সামনে বোরো মৌসুম হওয়ায় বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর আরো চাপ তৈরি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান জ্বালানি মূল্যনীতি পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানান। তিনি পৃথক মূল্যনীতি, ধাপে ধাপে দাম সমন্বয়, স্বচ্ছ ও ফর্মুলা-বেজড প্রাইসিং, কৃষকের জন্য টার্গেটেড ডিজেল সাপোর্ট ও বিপিসির আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থার স্বাধীন অডিটের দাবি জানান।

তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব বাড়াতে হবে, তবে মানুষের পকেট কেটে নয়। কর ফাঁকি বন্ধ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।