যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বন্দিদের পিসি বইয়ের টাকা আত্মসাৎ, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়া এবং টাকা না দিলে বন্দিদের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া একাধিক ব্যক্তি জানায়, একজন হাজতি জেলখানার গেটে প্রবেশের পর থেকেই টাকা আদায়ের সূচনা করে কারা কর্তৃপক্ষ, যা চলে জামিনে বের হওয়া পর্যন্ত। মোবাইল, নামের বানান ভুল, চিকিৎসা, খাবারসহ বিভিন্ন খাতে এ টাকা আদায় করা হয়। জেলখানায় টাকা আদায়ের কাজ করেন আসামি, জেল পুলিশ ও ক্যান্টিনে কর্মরতরা।
তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসা, খাবারের মান, পিসির টাকা আত্মসাৎ অভিযোগের বিষয়গুলো সঠিক নয়। কারা কর্তৃপক্ষ টাকার বিনিময়ে কোনো কাজ করে না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার।
সম্প্রতি যশোর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন আক্তারুজ্জামান। তিনি বাঘারপাড়া থানায় করা নাশকতা মামলার আসামি। আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘কারাগারে প্রবেশের আগে তাদের নাম, বাবার নাম ও বাড়ির ঠিকানা লিখতে হয়। হাজতিরা তাদের নাম ও পরিচয় সঠিকভাবে লিখলেও কারা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করে ভুল লেখে। একজন হাজতির নাম যদি হয় “আব্দুর রহমান” কারা কর্তৃপক্ষ তার নাম লিখবে “আব্দুর বহমান”। আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর হলেও “র” ও “ব”-এর বেড়াজালে আটকে দেয়া হয় ওই হাজতিকে। গেটের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীকে টাকা দিলে “ব” আবার “র” হয়ে যায়। কেউ টাকা দিতে না পারলে তাকে অতিরিক্ত একদিন হাজতে থাকতে হয়। তবে এ টাকা হাজতিকে দিতে হয় পিসি বইয়ের মাধ্যমে।’
কামরুজ্জামান নামে আরেকজন বলেন, ‘যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পিসি বইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন শাহনেওয়াজ। একটি মামলায় ১০ বছর সাজা হয়েছে তার। হাজতিদের স্বজনরা এসে পিসি বইয়ে টাকা জমা দেন। কিন্তু শাহনেওয়াজ পিসিতে টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আমার বড় ভাই পিসি বইয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেন। কিন্তু শাহনেওয়াজ সেই টাকা আত্মসাৎ করেন। তাকে সহযোগিতা করেন কারারক্ষীরা।’
হত্যা মামলায় ভোলার চরফ্যাশনের এক আসামি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তার মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘কারাগারে প্রবেশের প্রথম দিন আমদানিতে রাখা হয় ছেলেকে। পিসি বইয়ের মাধ্যমে আমদানিতে বেড পেতে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। পরের দিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেও টাকা গুনতে হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হলেও টাকা দিতে হয়। কয়েক দিন আগে ছেলে অসুস্থ ছিল। কারাগারের মেডিকেলে সিট পেতে টাকা দিতে হয়েছে। আমার ছেলে ভর্তির দিন ৬৫ সিটের বিপরীতে রোগী ছিল ৪০-৪৫ জনের মতো। কিন্তু সিট পেতে পিসি বইয়ে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। তারপর সিট মিলেছে।’
এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতিদিন মাদক মামলার আসামিরা কারাগারে আসে, আবার জামিন নিয়ে বের হচ্ছে অনেকে। আমরা প্রত্যেক ওয়ার্ডে নিয়মিত চেক করছি। তাতে কেউ না কেউ মাদকসহ ধরা পড়ে। মাদক বিক্রেতাদের কঠোর শাস্তিও দেয়া হয়। তার পরও থামছে না এ অপকর্ম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন মোবাইলে কথা বলতে দেয়া হয়। এর মধ্যে অনেকে নিয়ম ভঙ্গ করে মোবাইলে কথা বলে। ধরতে পারলে তাদের শাস্তি দেয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা, খাবারের মান ও পিসি বইয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়গুলো সঠিক নয়। কারা কর্তৃপক্ষ টাকার বিনিময়ে কোনো কাজ করে না। প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাওয়া হয়। তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। তখন কোনো আসামি অভিযোগ করে না। তাহলে সমস্যার সমাধান করব কীভাবে।’










