সারা দেশে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বঙ্গবন্ধু হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির রুমে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়ে তিনটি পিস্তল, একাধিক দেশীয় অস্ত্র ও মদের বোতল উদ্ধার করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রলীগের দফতর সেল ও সভাপতির কক্ষ থেকে এসব দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশকালে বঙ্গবন্ধু হলে রাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে ভাঙচুর চালিয়ে একটি ট্রাংক উদ্ধার করা হয়। যেখানে তিনটি পিস্তলসহ প্রায় ৬টি দেশীয় রামদা পাওয়া যায়। এছাড়াও কিছু মদের বোতল উদ্ধার করেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের কক্ষেও ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে আন্দোলনকারীরা হলে ভাঙচুর করে অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাধা দিতে আসলে শিক্ষার্থীদের তাড়া খেয়ে ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।  

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে কাজলা গেট এলাকায় বিজিবি দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম সাউদ বলেন, আমরা এমনটা কখনোই আশা করিনি। আমরা সকল পক্ষের সাথে কথা বলেছিলাম। সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা নিয়ে আজ বিকাল ৩টায় আন্দোলন করার কথা ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হলে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি কখনোই আশা করিনি। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হল বলেন, এটি হল প্রশাসন দেখবে যদি ছাত্ররা উদ্ধার করে থাকে তাহলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।