বরগুনার তালতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ প্রকল্প থাকলেও পানি পাচ্ছেন না তরমুজ চাষীরা। অভিযোগ, সেচ প্রকল্পের অধীনে ২০ হেক্টর জমি রয়েছে। প্রকল্পের ম্যানেজার ফারুক মোল্লা কৃষককে পানি দিচ্ছেন না। প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তরমুজ চাষীরা। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেও সমাধান মিলছে না।
কৃষকরা জানান, সমিতির মাধ্যমে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের কবিরাজপাড়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিএডিসির সেচ প্রকল্প চালু করা হয়। ফারুক মোল্লাকে ওই সমিতির ম্যানেজার করা হলে প্রকল্প নিজের দাবি করে সেচ বন্ধ রেখেছেন। এ ব্যাপারে কৃষক থানায় অভিযোগ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফারুক মোল্লাকে নোটিস করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ৩ মার্চ অভিযোগের শুনানির দিন থাকলেও তিনি আসেননি। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ফারুক মোল্লাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনা হলে সেচের পানি দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। তবে পরদিনই কৃষকদের পানি না দিয়ে উল্টো হুমকি দিতে থাকেন।
তরমুজ চাষী নজরুল বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে সেচের অভাবে তরমুজের ভালো ফলন হচ্ছে না। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার ও এসএম সাদিক তানভীর আমাদের পানি দেয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে সমাধান হয়েছে। নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলেই ঝামেলা করেন ফারুক মোল্লা। সাবেক এক সচিবের প্রভাব দেখিয়ে তিনি আমাদের সেচ দিচ্ছেন না।’
আরেক কৃষক কালাম বলেন, ‘পানি না পেলে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। জমিতে পানি দরকার। তরমুজ কিছুদিনের মধ্যে বাজারে তুলতে হবে। এখন যদি পানি দিতে না পারি তাহলে তরমুজ পুষ্ট হবে না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমরা অভিযোগ করেছি।’
এ বিষয়ে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মোসাদ্দেক জানান, সেচ প্রকল্প দেয়া হয়েছে জমিতে পানি সরবারহ করার জন্য। স্থানীয় বিরোধের কারণে প্রকল্পের ম্যানেজার জমিতে সঠিকভাবে পানি দিচ্ছে না বলে অনেক অভিযোগ আছে আমাদের কাছে। এগুলো অস্থায়ীভাবে সমাধানও হয়েছে। তবু তিনি প্রতি বছর কৃষকদের সঠিকভাবে পানি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাচ্ছি। এ বিষয় নিয়ে ফারুক মোল্লার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি যদি পানি না দেন, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, ‘কবিরাজপাড়ার বিএডিসি সেচের পানি কৃষকদের না দেয়ার একটি অভিযোগ পেয়েছি। এজন্য শুনানিও করেছি। সেখানে ফারুক মোল্লা কৃষকদের পানি দেবেন বলে স্বীকারও করেন। তবে এখন পর্যন্ত কৃষকদের পানি দিচ্ছেন না তিনি। কয়েক বছর ধরে পানি নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাৎক্ষনিক পানি সেচের ব্যবস্থা করা হলেও প্রতি বছরই একই ঝামেলা করছেন ফারুক। উপজেলা সেচ কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা হবে।’










