শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে আবাসিক হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এর আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং একমাত্র ছাত্রী হল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের বুধবার (১৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

হল ত্যাগের এমন সিদ্ধান্তের পর ছাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করেন। এক পর্যায়ে হল প্রভোস্ট দীপিকা রানি সরকার ছাত্রীদের কাছে ২০ মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে সভা করেন এবং মেয়েদেরকে হলে থাকার ঘোষণা দেন।

এ সময় প্রভোস্ট দীপিকা রানি সরকার জানান, যেসব শিক্ষার্থী হলে থাকতে চায়, তারা থাকতে পারবে। যারা চলে যেতে চায় তারা চলে যাবে। বিদ্যুৎ, পানি সবকিছু সচল থাকবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও বুধবার বিকাল ৫টার মধ্যে হল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেন।

এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা চাইলে হলে থাকতে পারবে। এক্ষেত্রে হল প্রশাসন কোনো শক্তি প্রয়োগ করবে না। পূর্বের মতো প্রক্টরিয়াল বডি এবং হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেবেন।

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও (ডুয়েট)। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশনা দেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ডুয়েট প্রশাসন সিদ্ধান্ত বদল করে।

ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান হল খোলা রাখার অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি জানান, এখন থেকে আইডি কার্ড ব্যতীত কোনো শিক্ষার্থী গেট দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না এবং বহিরাগত কোনো ব্যক্তি ডুয়েটে প্রবেশ করতে পারবে না।

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত বদল করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও। প্রভোস্ট স্থপতি কৌশিক সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি হল ছাড়তে না চায় আমরা তাদেরকে ফোর্স করব না এবং হলের ডাইনিংও খোলা থাকবে।