১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। ভোরের তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের একটি বাড়িতে পুরো পরিবার ঘুমে আছন্ন, আর দশটা রাতের মতোই। কিন্তু কে জানত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বাড়ি হয়ে উঠবে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের ঠিকানা।

একদল বিপথগামী সেনাসদস্য অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে। সেই ভোরেই প্রাণ হারান শেখ মুজিব, তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, ছেলে শেখ কামাল আর শেখ জামাল, আর মাত্র দশ বছরের শিশু শেখ রাসেল। প্রাণ যায় দুই পুত্রবধূরও। একই রাতে হামলা হয় আরো দুই বাড়িতে। বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করা হয়, আর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারেও ঝরে যায় একাধিক প্রাণ। সেই সময় ব্রাসেলসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা।
শেখ মুজিবের বিপদের কথা শুনে সেদিন তাকে বাঁচাতে ছুটে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতির তৎকালীন সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ। কিন্তু ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের কাছাকাছি পৌঁছালে ঘাতকরা তাকেও গুলি করে হত্যা করে।
১৯৪০-এর দশক থেকে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, সামরিক শাসনের বিরোধিতা এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে সুসংগঠিত করে এবং আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।
আগরতলা মামলায় তাকে অভিযুক্ত করার পর ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়; ওই সময় তাকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে বিপুল বিজয় অর্জন করে এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।










