এবারের শারদীয় দুর্গা পূজা সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী গতকাল রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউসংলগ্ন বনানী পূজার মাঠে ‘গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত শারদীয় দুর্গা পূজার মহাষষ্ঠীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, উপাসনালয় নির্মাণ এবং কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়া সব আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটির পরিবর্তে ধর্মীয় সম্প্রীতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ এখানে সম্প্রদায় হয়ে আসিনি। দেশের আইন-কানুন বা সংবিধান কাউকে সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের সমান অধিকারপ্রাপ্ত স্বাধীন নাগরিক। অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক ফায়দা ও ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলেও বর্তমান সরকার নাগরিক হিসেবে সবার অধিকারকে প্রাধান্য দেয়।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারীসহ আমন্ত্রিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও ডিপ্লোমেটিক কোরের সদস্যরা। বক্তব্য রাখেন বাফুফে সভাপতি ও বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া (দিলন) প্রমুখ। গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে এবং সদস্য স্বপ্না ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। মহাষষ্ঠীর শুভলগ্নে দুর্গা মায়ের আগমনী গান, নৃত্য পরিবেশনা, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন এবং শারদীয় বিশেষ সাময়িকী ‘বোধন’-এর মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।