যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ হতে চলেছে ইরানের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা। আগামী কাল ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কোনো ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থা আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে না।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের বৈশ্বিক বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ দিন থেকে কোনো ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থার উড়োজাহাজ যদি বিদেশের কোনো বিমান বন্দরে অবতরণ করে— সেটি জ্বালানি পাবে না, ল্যান্ডিং পরিষেবা পাবে না এমনকি কোনো বিদেশী বিমান বন্দরে ইরানি কোনো বিমানের টিকিটও বিক্রি করা যাবে না।’

সিএনবিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ এর আওতায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোর ওপর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশকে সতর্কবার্তা দিয়ে ২৪ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেছিলেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে, তারা আমাদের অংশীদারত্বের সুফল ভোগ করবে। আর যারা পাশে থাকবে না, তারা একটি ক্ষয়িষ্ণু শাসনের পরিণামের অংশীদার হবে।’

গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সেদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আলোচনা, হুঁশিয়ারি-পাল্টা হুঁশিয়ারির পর ২৪ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধ ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। সেদিন ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ‘আমাদের এ অভিযানে লক্ষ্য হলো তেহরানে ক্ষমতাসীন স্বৈরাচার সরকারের প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন কেটে দেওয়া। যতদিন পর্যন্ত তেহরান সম্পূর্ণ একা না হচ্ছে, ততদিন এ অভিযান চলবে।’