দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের উপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আসাদুল হক ও জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন মনে করছে র্যাব ও পুলিশ। তাদের সবাইকেই রংপুর র্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।
আসাদুলের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী নবিরুল নামের একজনকে আটক করেছে র্যাব।
আটককৃতরা হলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে আসাদুল হক (৩৫), একই উপজেলার রানিগঞ্জ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গির হোসেন (৪২), নৈশপ্রহরি নাহিদ হোসেন পলাশ (৩৮), তার বাড়ি দিনাজপুর সদরে, দেবীপুর গ্রামের আদু মিয়ার ছেলে মাসুদ হোসেন (৩৫), চকবামুনিয়া গ্রামের নবিরুল ইসলাম (৩৮), সে পেশায় একজন রংমিস্ত্রী, তার কাছ থেকে হাতুড়ি জব্দ করা হয়েছে।
সন্দেহজনক প্রধান অভিযুক্ত আসাদুল হক ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও জাহাঙ্গীর হোসেন ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। মাসুদ হোসেন সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। সম্প্রতি ত্রাণ বিতরণ নিয়ে কিছুদিন আগে পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলনের উপর হামলা চালিয়েছিলেন তারা, ওই মামলার আসামিও তারা। এছাড়া চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অভিযোগ এনে জেলা যুবলীগের কাছে ব্যবস্থা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অবশ্য আজ কেন্দ্রীয় যুবলীগ তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসাদুলের বাবা একজন জুতার দোকানি। আসাদুল ওসমানপুরে সিএনজি অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করতেন।
দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক বলেন, ইউএনওর উপরে হামলার ঘটনায় আটক হওয়া আসাদুল ও জাহাঙ্গীরসহ তাদের গ্রুপের সদস্যদের অ্যতাচারে বিশেষ করে ওসমানপুর এলাকার মানুষজন অতিষ্ঠ, এমনকি তারা আমার বিরদ্ধেও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। এমনকি দলের নাম ভাঙিয়ে তাদের অন্যায়ভাবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি করছে। তাদের এ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমি নিজে জেলা যুবলীগসহ কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয় দেড় থেকে দুমাস আগে। কিন্তু কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি,আজ এর কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হলো, এর দায় কে নিবে?
হাকিমপুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা এবং রংপুর র্যাবের একটি দল যৌথভাবে আজ ভোর ৪টা ৫০মিনিটে হিলির কালিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুল হককে আটক করে।
একইভাবে ওই দল ঘোড়াঘাট থেকে জাহাঙ্গীরকে আটক করে রংপুরে র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাসুদ ও নৈশপ্রহরী পলাশকে আটক করে। এছাড়া আসাদুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নবিরুল নামের আরো একজনকে আটক করেছে র্যাব। এনিয়ে ওই ঘটনায় আটকের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচ জনে।









