জনসাধারণের হারানো ৪২টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্নভাবে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিয়েছে ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভবাজারস্থ ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
এছাড়া উদ্ধারকৃত অর্থের মধ্যে বিকাশে ভুলবশত চলে যাওয়া ৪৭ হাজার টাকা এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৭৭ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) রেজাউল করিম অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে প্রকৃত মালিকদের কাছে উদ্ধারকৃত টাকা ও মোবাইল ফোন হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৮ এপিবিএনের সহ-অধিনায়ক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) এনায়েত করিম, অ্যাডজুটেন্ট মশিয়ার রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার ইত্তেখায়রুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ১৮ এপিবিএনের পুলিশ পরিদর্শকবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ এবং সাইবার ক্রাইম সেলের সংশ্লিষ্ট সদস্য ও টিম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নিজের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নমিতা চাকমা বলেন, ‘৬ মাস হলো আমার মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়। এ ফোনের মাধ্যমে বাড়ির বাইরে থাকা ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতাম। সেই যোগাযোগটাও অনেক দিন হলো বন্ধ রয়েছে। থানায় জিডি করে অনেক দিন অপেক্ষা করেছি, কোনো সুরাহা হয়নি। পরে আমার এক আত্মীয়ের কাছে জানতে পারি, এপিবিএন নাকি হারানো ফোন উদ্ধারে দ্রুত কাজ করে। পরে এক মাস আগে আমার জিডির কপি এপিবিএনকে দিলে তারা ফোনটি উদ্ধার করে এবং আজ আমার কাছে ফিরিয়ে দেন। আমি তাদের এ কার্যক্রমে খুবই আনন্দিত। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই আমার। তাদের এমন মহৎ কাজের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’
তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন আজ ফিরে পেয়েছেন ব্যবসায়ী ইয়াছিন আরাফাত। তিনি বলেন, ‘আমি তো ফোন ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এপিবিএন আমাকে সেই নিরাশা থেকে মুক্ত করেছে। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ফোন ফিরিয়ে দিয়েছে। এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তাদের এমন মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেবা দিয়ে যাবেন—এই কামনা করি।’
অনুষ্ঠানে ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) রেজাউল করিম বলেন, ‘জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারে ১৮ এপিবিএন ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’ তিনি একই সঙ্গে জনগণকে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকা এবং অনলাইন প্রতারণার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশের সাফল্য শুধু অপরাধী গ্রেপ্তারে নয়; একজন অসহায় মানুষের হারানো সম্পদ তার হাতে ফিরিয়ে দেয়ার মধ্যেও পুলিশের মানবিক দায়িত্ব ও সেবার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে।’










