শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং লে-অফ ঘোষণা করা কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। এতে নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে পথচারী ও যাত্রীরা। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ইউরো টেক্স লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকার রফতানিমুখী পোশাক কারখানা ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেডে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক মাসের বকেয়া বেতন, ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ভাংচুর করে। এ ঘটনায় কারখানার কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বাদী হয়ে চাকরিচ্যুত ২৮ শ্রমিককে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় ভাংচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। এরপর থেকে শ্রমিকরা মামলা প্রত্যাহার ও ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালিকপক্ষ কারখানা শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান লে-অফ ঘোষণা করে। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা মামলা প্রত্যাহার, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং লে-অফ ঘোষণা করা কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরের চাষাঢ়ায় সড়ক অবরোধ করে।

ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেডের সুইং অপারেটর মিঠু চন্দ্র দাস বলেন, কিছুদিন পূর্বে একটা আন্দোলন হয়েছিল। এই আন্দোলনের কারণে আমাদের শ্রমিকদের নামে মামলা হয়েছে। শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে। মাস্তানদের দিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমাদের মামলা প্রত্যাহার ববেং পুলিশি ও মাস্তানদের দ্বারা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এসবের সঙ্গে ২৭ জন শ্রমিকের নামে মামলা করে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। এলাকার মাস্তানদের লেলিয়ে দিয়েছে। আজকে হঠাৎ করেই গার্মেন্টস বন্ধ করে দিয়েছে। যার কারণে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছে। শ্রমিকদের দাবি, কারখানা খুলে দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ঝুট সন্ত্রাসী দ্বারা ভয় ভীতি বন্ধ করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা গার্মেন্টস ও সুয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি এম এ শাহীন বলেন, ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা তাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারে না। কথা বলতে গেলেই চাকরিচ্যুত করা হয়। প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিকের গত মাসের বেতন এখনো দেয়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক রাজীব চন্দ্র ঘোষ বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই বিভিন্ন সময় ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা বিশৃঙ্খলা করে আসছিল। তাদের বিশৃঙ্খলার কারণে মালিকপক্ষ মামলা করে। আর তাই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছে।

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদেরকে বুঝিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেয়ায় শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেছে।