একসময় জাঁকজমকপূর্ণ স্টেশনটি এখন যাত্রীসেবাহীন এক জরাজীর্ণ স্থানে পরিণত হয়েছে। স্টেশনে নেই ন্যূনতম যাত্রীসেবা। রেল কর্তৃপক্ষের দফায় দফায় আশ্বাসের পরও কাটেনি স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ।
স্টেশনের অবকাঠামো বর্তমানে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে। এখানে যাত্রীদের জন্য কোনো ছাউনি নেই। ফলে রোদ কিংবা বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচেই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রীদের বসার জন্য নেই কোনো আসন বা বেঞ্চের ব্যবস্থা। দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে স্টেশনের নোংরা মেঝেতেই বসে পড়েন।
স্টেশনের একমাত্র টয়লেটটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী। টয়লেট ব্যবস্থা সচল না থাকায় স্টেশনে আসা নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রাকৃতিক ডাক কিংবা ফ্রেশ হওয়ার কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
জানা গেছে, হিলিতে স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট রয়েছে। এ কারণে ব্যবসা ও চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন শত শত মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন। অথচ হিলি স্টেশনের ওপর দিয়ে ঢাকাগামী একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও কোনো যাত্রাবিরতি নেই। বর্তমানে এই স্টেশনে রাজশাহীগামী বরেন্দ্র, তিতুমীর ও একটি লোকাল—মাত্র তিনটি ট্রেন থামে। ঢাকাগামী ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আসমা আকতার ও শিহাব হোসেন জানান, পড়াশোনার জন্য তাদের রাজশাহী, খুলনা বা ঢাকা যেতে হয়। হিলিতে ঢাকাগামী ট্রেন না থামায় তাদের পাশের বিরামপুর বা পাঁচবিবি স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়। এতে তাদের অনেক সময় নষ্ট হয় ও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অন্য এলাকা থেকে হিলিতে ঘুরতে আসা সবুজ হোসেন জানান, সঠিক সময়ে জয়পুরহাটের কোনো ট্রেন না থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে সড়কপথে বাসে ফিরে যাচ্ছেন।
আগে এই স্টেশনে মালবাহী ট্রেনের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হতো। বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ। স্টেশনের ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানান, স্টেশনে ট্রেন না থামায় কোনো যাত্রী নামে না। যাত্রী না আসায় স্টেশন এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের উপক্রম হয়েছে। রুজি-রোজগার হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
হিলি রেলস্টেশন মাস্টার জয়ন্ত চক্রবর্তী জানান, স্টেশনটিতে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। স্টেশনটি সচল রাখতে ন্যূনতম দুজন স্টেশন মাস্টার, দুজন বুকিং সহকারী, ছয়জন পয়েন্টস ম্যান ও দুজন গেটম্যান প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে মাত্র একজন স্টেশন মাস্টার, একজন বুকিং সহকারী ও তিন-চারজন পয়েন্টস ম্যান নিয়ে অর্ধেক জনবলে কাজ চলছে। ফলে কর্মরতদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।










