বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেছেন, ব্যাংকগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কৌশলে ব্যবসায়ীদের টাকা লুটেপুটে নিচ্ছে। তিনি জানান, তার দীর্ঘ ৩৮ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে রফতানি নথি জমা দেয়ার পর ব্যাংককে সুদ কাটতে কখনো দেখেননি।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাংক লুটপাট ও টাকা পাচারের খেসারত এখন পুরো শিল্প ও দেশের অর্থনীতি দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোর এ কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে সরকারকে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভারত থেকে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, একটি শিল্প বাঁচাতে গিয়ে অন্য কয়েকটি শিল্প বন্ধ করে দেয়া কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। তার মতে, সুতা আমদানি বন্ধ হলে চীন থেকে কম দামে কাপড় আমদানি শুরু হবে, যা দেশের স্পিনিং ও ডাইং কারখানাসহ পুরো খাতকে ধ্বংস করে দেবে। তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প আইসিইউতে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি ভারত থেকে সুতা আমদানির বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সেলিম রহমান বলেন, বিশ্ববাজারের মন্দা ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের এ কঠিন সময়ে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ পদক্ষেপের ফলে ২৭ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সেলিম রহমান আরো জানান যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি সুতার দাম যেখানে ২ ডলার ৫০ সেন্টের আশেপাশে, সেখানে দেশীয় মিলগুলো ৩ ডলার দাবি করছে। কেজিতে ৪৬ টাকার এ ব্যবধান মেনে নিয়ে বিশ্ববাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, কৃত্রিম সুরক্ষার আড়ালে একচেটিয়া বাজার তৈরির সুযোগ দেয়া হলে উৎপাদন সূচি তছনছ হয়ে যাবে। এরই মধ্যে রফতানি কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চমূল্যে সুতা কিনতে হলে ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। বস্ত্রখাতকে সুরক্ষা দিতে আমদানিতে বাধা না দিয়ে সরাসরি নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানির দাম যৌক্তিক করা এবং স্পিনিং মিলগুলোর জন্য কর রেয়াত ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।