বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে প্রতি লিটারের দাম ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে বেড়ে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা হয়েছে। গতকাল রাত ১২টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১৯ শতাংশ। এসব কেন্দ্র থেকে বর্তমানে সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বিভিন্ন জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রের মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় সবচেয়ে বেশি। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ায় এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বিপিডিবির ব্যয় আরো বাড়বে। এতে সরকারের ভর্তুকির ওপর চাপ আরো বাড়বে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ২০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানি হয়। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির বেশির ভাগ আমদানি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বাকি অংশ আমদানি করে কয়েকটি কোম্পানি। গতকাল ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়িয়ে আদেশ জারি করেছে বিইআরসি।
এর আগে টানা দুই মাস ফার্নেস অয়েলের দাম কমিয়েছিল রেগুলেটরি কমিশন। গত ৩০ জুন প্রতি লিটারের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা করা হয়। পরের দুই মাসে তা আরো কমে ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সায় নামে। এবার এক ধাক্কায় ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়ানো হলো।
আগে ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করত বিপিসি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গণশুনানির পর ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। এরপর থেকে প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন দর ঘোষণা করছে কমিশন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার কমিশনকে দেয়া হয়।
বিপিসির অধীন থাকা তেল বিপণন করা সরকারি চার কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল নতুন দামে ফার্নেস অয়েল বিক্রি করবে। এ তেলের প্রধান ক্রেতা সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিপিডিবি। সরকারের নির্বাহী আদেশে ফার্নেস অয়েলের দাম সর্বশেষ নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করে বিপিসি। এরপর চারটি তেল বিপণন কোম্পানিও প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। এক বছর পর গত ২৯ জানুয়ারি এ প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।










