রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, আজ আরো দু’বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে; দ্বিতীয়বার প্রায় ৩০ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পর রিভার্স করেছে। ব্রেন ফাংশন করছে না; জিসিএস (কোমা) লেভেল ৩। রক্ত চাপ ও অক্সিজেন লেভেলও অনেক কম।
এর আগে বুধবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাতে এক ফেসবুক পোস্টে পর শিশুটির অবস্থা 'সংকটাপন্ন' উল্লেখ করে সেনাবাহিনী জানায়, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন শিশুটি এদিন চারবার হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছে। পরে সিপিআর দেওয়ার মাধ্যমে তার অবস্থা স্থিতিশীল করা হয়েছে। তার রক্তে লবণের ভারসাম্যহীনতার কারণে ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে। অন্যান্য জটিলতার পাশাপাশি শিশুটির রক্তচাপ ৬০/৪০, যা আরো নিম্নমুখী।
আরো বলা হয়, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসা পর্ষদ সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুটির জীবন রক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন অবস্থায় শিশুটির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে সেনাবাহিনী।
একই দিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছিলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। তার সিজিএস চার থেকে তিনে নেমে এসেছে। ব্রেইন স্টেম এবং চোখের মণির প্রসারণ গতকালের (মঙ্গলবার) তুলনায় কমে গেছে। সিএমএইচের চিকিৎসকরা প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি যাতে শিশুটি সুস্থ হয়। আমরা তার জন্য দোয়া চাচ্ছি।
মাগুরা শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরে তাকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) এনে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শুক্রবার রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
গত শনিবার ঢাকা মেডিকেলে শিশুটির অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’ জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এরপর তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হলেও সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।










