ভারত থেকে আসা ঢল আর ভারি বর্ষণে ফেনীর বন্যা পরিস্থিতি গতকাল ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় অচল হয়ে পড়ে প্রায় অর্ধেক মোবাইল টাওয়ার। তাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন সেখানকার বেশির ভাগ মানুষ। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তথ্যমতে, গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফেনীর ৭১ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে। আর খাগড়াছড়িতে এ হার ৪৫ শতাংশ।

অপারেটররা জানান, বন্যাকবলিত অঞ্চলে আমাদের অপারেটরদের টাওয়ার এলাকা ডুবে গেছে। এসব টাওয়ারে একদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, অন্যদিকে তুমুল স্রোতে প্রাসঙ্গিক যান্ত্রিক সহযোগিতা পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে৷ নেটওয়ার্ক রি-ইনস্টল করা যাচ্ছে না। তারা জানান, অপারেটররা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু স্রোত না কমা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক পুনঃসংযোগ করা সম্ভব নয়।

জানা গেছে, বন্যায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত ফেনী। এ এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল করতে এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঁচটি ভিস্যাট পাঠানো হয়েছে। বন্যাপ্লাবিত বিভিন্ন এলাকার জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির সহায়তায় ১০টি ভিস্যাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি মোবাইল অপারেটরের সহায়তায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য ৫০০ মেগাবাইট ডাটা ফ্রি করা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তথ্যানুযায়ী, গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত ১২টি জেলার ১২ হাজার ১৭৯টি সাইট বা টাওয়ারের মধ্যে ১০ হাজার ১৫৪টি সাইট সচল আছে। অচল হয়ে পড়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ টাওয়ার। টাওয়ার সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। একই সঙ্গে ব্যাটারি ব্যাকআপ, ডিজেল জেনারেটর কিংবা পোর্টেবল জেনারেটরের মাধ্যমে টাওয়ার সচল রাখতে সংস্থাটি মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে।

টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করার কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। ১৫ জনের ইমার্জেন্সি রেসপন্স দল গঠন করা হয়েছে। তারা দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন। বিটিআরসির ইমার্জেন্সি রেসপন্স দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে +৮৮০২২২২২১৭১৫২ নম্বরে ফোন করতে হবে। বিটিআরসির কল সেন্টার ১০০ ব্যবহার করেও ওই দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।