মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত কেবল অর্থনীতি বা বিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। মৎস্যসম্পদ আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ, একে শুধু প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পূর্ণতা আসে না।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এ আয়োজিত ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের গবেষণা প্রস্তাবনা পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৫-২৬)’ শীর্ষক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর-এর উদ্যোগে এ কর্মশালা আয়োজিত হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদী সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায়, বাংলায় প্রকাশ করা জরুরি। সামাজিক-অর্থনৈতিক গবেষণায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হালদা পাড়ের বাস্তবতা বোঝার জন্য স্থানীয় নারীদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেয়া অপরিহার্য।
হালদা নদীর ঝুঁকি প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই নদীর প্রধান হুমকি। বিষয়টিকে ‘এনথ্রোপোজেনিক’ শব্দে আড়াল না করে মানুষের ক্ষতিকর কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ভুজপুর রাবার ড্যাম ক্ষতিকর হলে তা অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নদীতীরবর্তী তামাক চাষ মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে কিছুটা সুরক্ষা দেবে। পাশাপাশি স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা ও আগ্রাসী ‘সাকার ফিস’ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে একটি মধ্যমেয়াদি কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. ইমাম উদ্দীন কবীর ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।









