স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
জানা যায়, বৈঠকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আপাতত দুই কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশের এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ে কিছু চালান পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তির ‘ফোর্স মেজর’ ধারা প্রয়োগ করছে। অর্থাৎ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এ অবস্থায় স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জুন ও জুলাইয়ের প্রথম দিকের জন্য দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এলএনজি কার্গো ক্রয়ের পর তা দেশে পৌঁছাতে এবং খালাস করতে নির্দিষ্ট সময় লাগে।
তিনি বলেন, তৃতীয় কার্গো কেনার বিষয়ে সরকার এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মধ্যে যদি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কোনো চালান দেশে পৌঁছে যায় অথবা বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তাহলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তাই একটি কার্গোর ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন সূচক ও পূর্ববর্তী কয়েক মাসের গড় দামের ভিত্তিতে এসব ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়।










