টেলিফোনে আড়িপাতা সংস্থা জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ। এছাড়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশনের প্রয়োজন নেই বলে মত দিয়েছেন তারা। এ খাতে ব্যবহার করা টাকা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়। 

গতকাল কারওয়ান বাজারে বেসিসের সভাকক্ষে সিভিল রিফর্ম গ্রুপ-বাংলাদেশ ২.০-এর আয়োজনে ‘‌নতুন বাংলাদেশে আড়িপাতা, গোপনীয়তার অধিকার ও বাকস্বাধীনতা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

সংলাপে বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, ‘‌যে প্রতিষ্ঠান ১৫ বছর ধরে জনগণের ওপর নজরদারি করেছে তাদের যন্ত্র রয়ে গেছে, সেগুলো কীভাবে সংস্কার করা হবে’।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, রাজনীতিবিদ জুনায়েদ সাকি, সাইবার বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির, ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব, সাংবাদিক গোলাম মুর্তজা, ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি, প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞ শাবহানাজ রশিদ দিয়া। 

আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বিএম মইনুল হোসেন, মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা, তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক জাকারিয়া স্বপন। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‌একটিও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নেই যেটা দলীয়করণ হয়নি। এনটিএমসির প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আর সরকারের বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার এক জিনিস নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, আগের সংস্কৃতিতে যেন ফিরে না যায়।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সারা পৃথিবী আলোচনা করছে কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করা যায়, কীভাবে লিবার্টি আরো বাড়ানো যায়, কীভাবে সেপারেশন অব পাওয়ার নিশ্চিত করা যায়। আর আমরা চিন্তা করছি ভোটটা কি দিনে দেয়া যায়! আমরা সব জায়গায় প্রাগৈতিহাসিক আলোচনা করছি। একটা রাষ্ট্রের যে সর্বনিম্ন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে তার কোনোটিই ছিল না। বিগত সরকার রাষ্ট্রকে প্রাগৈতিহাসিক যুগে নিয়ে গেছে।’

মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‌১৭ আগস্ট আমরা এনটিএমসি বিলুপ্তি করার বিবৃতি দিয়েছি। এনটিএমসির কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষ জানেই না। গণমাধ্যমে যেসব গোপন ভিডিও ক্লিপ, অডিও প্রকাশ হয় আমরা কি কখনো প্রশ্ন করেছি তারা এগুলো কোথায় পায়? চলতি বছর বিটিআরসি একটি বিদেশী কোম্পানিকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব দেয়। আমরা বলেছি, এগুলো দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে।’

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘‌প্রেস কাউন্সিল অকেজো প্রতিষ্ঠান। এটিকে কার্যকর করা দরকার। আমরা নতুন স্বাধীনতার কথা বলছি। ব্রিটিশ আমলের আইনে এখনো মামলা হতে দেখি। আমরা কি আমেরিকান স্টাইলে বাকস্বাধীনতা চাই যে যা খুশি তা বলা যাবে। হয়তো না। বিগত সময়ে কোর্টের কাঁধে রাইফেল রেখে গুলি করা হয়েছে। এখনো যেন কোর্টকে ব্যবহার না করি।’

জুলকারনাইন সায়ের খান সামি বলেন, ‘‌বিগত সময়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের ফেসবুক, মেইল হ্যাক করে সব তথ্য নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হতো। আর্মি, র‍্যাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের এভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। এসব কাজের জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা দরকার যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার এ ধরনের কাজ করতে না পারে।’