দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে নিজের সঙ্গে যা হয়েছে তার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
ভারতীয় বিমানবন্দরের ঘটনার বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় যা যা দেখছেন, নানা সূত্র থেকে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মিডিয়াতে যা যা এসেছে, আসলে ঘটনাগুলো ঠিক এই রকমই ঘটেছে। আমি আমার জায়গা থেকে খুব অল্প কথা বলি। আমি সেখানে একটা ব্যক্তি হিসেবে যাইনি—এই সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি, এই রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে সেখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো যে আমাদের ইনস্ট্যান্ট একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সেই কারণেই আমি আসলে ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘যদিও আপনারা মিডিয়াতে দেখেছেন, একটা পর্যায়ে তারা খুবই চেষ্টা করেছেন আমি যেন ভারতে প্রবেশ করি এবং আমার যে নিয়মিত যে কার্যক্রম, সেটায় অংশগ্রহণ করি। কিন্তু আমি সেটা আর করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে, আবারো বলছি, এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে মনে করেছি তা না, আমি মনে করেছি এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবে, তখন আমার মনে হয়েছে এই রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমার কখনো এই উদ্দেশ্য নেই যে এটার মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে একটা মেসেজ এই দেশ ও এই দেশের বাইরে সবার কাছে যাওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে এটা শেখ হাসিনার সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটা সরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারকে দেশের ভেতরে ও বাইরে সব জায়গায়, সেটা মাথায় রেখেই চলতে হয়। একই সঙ্গে অন্যদেরও সেই জিনিসটা কগনিজেন্সে নিতে হয়। সেই কারণেই আসলে কাজটা করা। এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত না শুধু, অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো এনগেজমেন্টে আমরা আমাদের একটা সুস্পষ্ট নীতি আছে। কোনোভাবেই আমরা চাই না কোনো দেশের সঙ্গে খুব খারাপ কোনো পরিস্থিতি হোক, কোনো শত্রুতা তো দূরেই থাকুক।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে, আমাদের স্লোগানের মধ্যে আছে “সবার আগে বাংলাদেশ”। মানে আমরা বাংলাদেশকে রাখব, তার মাধ্যমে প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এনগেজমেন্ট হবে। এবং সেটা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে বা আমার ক্ষতি করে কাউকে কোনো সুবিধা দেওয়া, এই নীতিতে এই সরকার কোনো দেশের সাথে, আমি আবারও বলছি এটা শুধু ইন্ডিয়া না, কোনো দেশের সাথে এই সরকার যাবে না।’
এ ঘটনা দু-দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করবে কিনা— এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই উচিত না। আমাকে যদি বলেন, আমি অলরেডি বলেছি যে এখানে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটার একটা ইনস্ট্যান্ট রিঅ্যাকশন হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা আমি মনে করি আমাদের জায়গা থেকে এর পরবর্তীতে যা যা হচ্ছে, এখন আমরা আর কী করব না করব, সেই ব্যাপারে আমি আসলে বলব না, বলছি না।’
কারণ হিসেবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা আপনারা অলরেডি দেখেছেন আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এটা চলে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা যা করণীয় করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন হাই কমিশনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন। এটা তারা আসলে বলবেন, এই সরকার কতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কিন্তু আমি এক্সপেক্ট করব, এই ঘটনার প্রভাব দুই দেশের ভবিষ্যতের এনগেজমেন্টের জন্য, আমি এনগেজমেন্ট কথাটা বলছি, এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এনগেজমেন্ট ইজ ইম্পর্ট্যান্ট, এনগেজমেন্টের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে না।’










